মঈন বাঙ্গালী, চট্টগ্রাম (হাটহাজারী) প্রতিনিধি: প্রায় একশো বছর ধরে গড়ে ওঠা দূর্গম জনবসতি মনাই ত্রিপুরা পাড়া, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত। এই প্রথম জেলা প্রশাসক হিসেবে কারো পদার্পণ ঘটলো উক্ত জনবসতিতে। শনিবার (২৪ আগষ্ট) দুপুরে মনাই ত্রিপুরা পাড়ায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার মান উন্নয়নে ” জেলা প্রশাসক প্রাথমিক শিক্ষা বৃত্তি- ২০১৯” প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ওই পাড়ার ৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৬০ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথি ইলিয়াস হোসেন ত্রিপুরা পাড়ার অধিবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একশ বছরের বেশি সময় ধরে অবহেলিত ত্রিপুরা পাড়া এখন আর অবহেলিত নয়। আমরা যেভাবে শহরে সুযোগ সুবিধা
নিয়ে থাকি ঠিক সেভাবে এ পাড়ার অধিবাসীরাও বসবাস করবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ পাড়া থেকেই একজন সুশিক্ষিত মেধাবী ছাত্র বের হবে, যে কিনা আমার মত একজন জেলা প্রশাসক হবে।
লেখাপড়ার পাশাপাশি বিনোদনের জন্য খেলার মাঠের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু পড়ালেখা করলেই হবেনা পাশাপাশি লাগবে বিনোদনের জন্য একটি খেলার মাঠ। আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সরকারি খাস জায়গায় একটি খেলার মাঠ করে দেয়া হবে। যাতে সাকিব আল হাসানের মত একজন খেলোয়াড় এ এলাকায় গড়ে উঠতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়তে স্বপ্ন দেখেছিলেন সে স্বপ্নের মধ্যে আপনারাও থাকবেন। আমরা যেভাবে সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকি আপনারাও সেভাবে সুযোগ সুবিধা পাবেন।
বাচ্চাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার অনুরোধ জানিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের এখানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে সেখানে সন্তানদের নিয়মিত পাঠাবেন। পরবর্তীতে কষ্ট করে হলেও স্কুল, কলেজে পাঠাবেন। লেখাপড়া সংক্রান্তে আপনাদের সব ধরনের খরচ জেলা প্রশাসক হিসেবে আমি দায়িত্ব নিলাম। টাকার অভাবে যাতে লেখাপড়ায় ব্যাঘাত না ঘটে। শুধু এ বৃত্তি নয় সামনে আরো অনেক কিছু করা হবে। শর্ত শুধু বাচ্চাদের শিক্ষিত করতে হবে। আপনাদের যে কোন সমস্যায় উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন। আমাদের দরজা আপনাদের জন্য সর্বদা খোলা।
চলাচলের কাঁচা রাস্তা বর্ষা মৌসুমের পর সলিন করে দেয়া হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বৃষ্টিতে যেভাবে কষ্ট করে চলাচল করছেন সামনে আর করতে হবেনা। বর্ষা মৌসুমের পর পরই সলিন করে দেয়া হবে। আপনাদের দাবি অনুযায়ী প্রার্থনার জন্য একটি মন্দির করে দেয়া হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্যে রাখেন, সাংবাদিক কেশব কুমার বড়ুয়া, ফরহাদাবাদ ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আলি আকবর।
শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাখেন ত্রিপুরা পাড়ার পক্ষে শোচিন ত্রিপুরা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হোসেন, হাটহাজারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্রাট খীসা, সাংবাদিক মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্থানীয় ইউপি সদস্য, পাড়ার অধিবাসীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।