নাব্যতা সংকটের কারণে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া ফেরিঘাটসহ তিন রুটেই যানবাহন পারাপার প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বেড়েছে। আজ রবিবার সকাল থেকে সকল রুটে ফেরি সীমিতভাবে চলাচল করছে। এতে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের তীব্র জট সৃষ্টি হচ্ছে।
কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া ফেরি রুটে দেড় সপ্তাহ ধরে বাস-ট্রাক পারাপার প্রায় বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, শরীয়তপুর-চাঁদপুরসহ প্রায় সকল নৌরুটে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে। ফলে নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে ঈদ যাত্রায় ঘরে ফেরা মানুষ।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, লৌহজং পয়েন্টে ড্রেজিং চলছে। আজ রবিবারের মধ্যেই পুরোপুরি চালু হবে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী চ্যানেল। তখন স্বাভাবিক হয়ে যাবে তিন পয়েন্টের ফেরি পারাপার। তবে এককথায় আস্থা রাখতে পারছেন না বিআইডব্লিউটিএর কর্মচারীরাই।
বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারি সাংবাদিকদের জানান, বিকল্প চ্যানেলে পানির গভীরতা আছে ৪-৫ ফুটের মতো। কিন্তু ফেরি চালাতে প্রয়োজন সাড়ে ৭ ফুটের মতো। এই চ্যানেলটিতে বর্তমানে পলি জমে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে পূর্বের সরাসরি মূল চ্যানেল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তাও খুব সাবধানে পার হতে হচ্ছে চ্যানেল।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪ হাজারের মতো যানবাহন পারাপার হতো। সেখানে এখন দিন-রাত মিলিয়ে ৬-৭ হাজার যান পার করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চাঁদপুর-হরিণাঘাটেও বেড়ে গেছে যানবাহনের চাপ। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী সাকুরা পরিবহনের এক চালক জানান, ‘সবচেয়ে বেশি জটিলতায় পড়েছে নিয়মিত কাঁঠালবাড়ী হয়ে চলাচলকারী প্রায় ৩০০-৪০০’ বাস।
কাঁঠালবাড়ীঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন বলেন, ‘এত কিছুর পরও প্রায়ই লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে আটকে যাচ্ছে মিডিয়াম ও কে-টাইপ ফেরি। চরে আটকেপড়া এসব ফেরি টেনে নামাতে সেখানে রাখা হয়েছে টাগবোট। তা ছাড়া চ্যানেলটি এতই সরু যে সেখানে একটি ফেরি আটকা পড়লেই বন্ধ হয়ে যায় পুরো রুট।’
বর্তমানে এ রুটে ছোট ছোট ৮টি ফেরি চলছে জানিয়ে শিমুলিয়া পয়েন্টের টিএ মিরাজ হোসেন বলেন, ‘বহরে থাকা ২১টি ফেরির ১৩টিই বর্তমানে বন্ধ। এতে রাজস্ব আয়ও অনেক কমে গেছে।’
সহকারী মহাব্যবস্থাপক খালিদ নেওয়াজ বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে আমরা এ পয়েন্ট থেকে দিনে গড়ে ২৪০০-২৫০০ গাড়ি পারাপার করি। যার মধ্যে ১৪০০-১৫০০ ছোট গাড়ি, ৩০০-এর মতো বাস এবং প্রায় সাড়ে ৭০০ ট্রাক।
ডাম্ব ও রো রো ফেরি বন্ধ থাকায় এখন মাত্র দেড় থেকে ২০০-এর মতো ছোট গাড়ি পারাপার হচ্ছে। আগে এ পয়েন্টে দৈনিক ৩৫-৩৬ লাখ টাকা আয় হতো, এখন ৪-৫ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।’
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪ হাজারের মতো যানবাহন পারাপার হতো। সেখানে এখন দিন-রাত মিলিয়ে ৬-৭ হাজার যান পার করেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এগুলোকে এখন প্রায় ১২৫ কিলোমিটার বেশি পথ পাড়ি দিয়ে পাটুরিয়া হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।