অবশেষে দেশে ফিরছেন সৌদি আরবে নিয়োগকর্তার নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি নারী শ্রমিক সুমি আক্তার (২৬)। একই সঙ্গে সৌদি থেকে দেশে ফিরছেন নির্যাতিত আরও ৯১ নারী গৃহকর্মী। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় এয়ার এরাবিয়ার জি৯-৫১৭ নম্বর ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি সৌদির শ্রম আদালত সে দেশ ছাড়ার ব্যাপারে সুমির পক্ষে রায় দেন। ফলে তাকে তার নিয়োগকর্তার দাবি করা টাকা দিতে হবে না।
এর আগে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কার্যালয় প্রধান মোস্তফা জামিল খান জানিয়েছিলেন, আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় ৭টায় সুমি ঢাকায় পৌঁছাবেন।
সুমির স্বামী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সুমি দেশে ফেরায় খুব ভালো লাগছে, তেমনি কষ্টও লাগছে। কারণ, ভাগ্য বদলের আশায় সৌদি গিয়েছিল সুমি, এখন খালি হাতে ফিরছে।’
এদিকে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সুমি শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছাবেন। সৌদি আদালতের আদেশে দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। কিন্তু ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করা ২২ হাজার সৌদি রিয়েল তিনি এখনই পাচ্ছেন না। এটা একটা অনগোয়িং প্রসেস। তাকে আপাতত দেশে পাঠানো হচ্ছে। পরে আইনকানুন দেখে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে আরও ১০০ নারী বাংলাদেশে ফেরত যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, গত চার বছরে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ নারী শ্রমিক সৌদি আরবে গেছেন। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার দেশে ফিরেছেন। ফিরে যাওয়া নারীশ্রমিকদের হার অনেক কম। সবাই যে নির্যাতনের কারণে ফিরে গেছেন, তাও নয়। তবে কিছু কিছু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।
আগামীতে এরকম অভিযোগ পেলে দূতাবাস সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সচ্ছলতার আশায় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান বাংলাদেশের মেয়ে সুমি আক্তার। বিনামূল্যে বিদেশে পাঠানোর কথা বললেও ভালো টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে দালালরা তাকে বিক্রি করে দেয়।
সৌদি আরব যাওয়ার সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই মারধর আর যৌন হয়রানিসহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন সুমি। সম্প্রতি ফেসবুকে ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেই নির্যাতনের কথা তুলে ধরে দেশে ফেরার আকুতি জানান তিনি।
পরে জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপে সুমিকে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নাজরান পুলিশ। শুরুতে সুমির নিয়োগকর্তার দাবিকৃত ২২ হাজার সৌদি রিয়াল পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে ফাইনাল এক্সিট- অর্থাৎ দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে জানালেও পরে নাজরান শহরের শ্রম আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।
আদালত সুমির দেশে ফেরার আবেদন মঞ্জুর করায় তার দেশে ফেরায় আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছিল জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়।
সুমি আক্তার পঞ্চগর জেলার বোদা সদর থানার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তার পরিবার জানায়, আগের স্ত্রীর কথা গোপন করে তাকে বিয়ে করে নুরুল ইসলাম। সেখানেও সতীনের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরে উপার্জনের আশায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন সুমি।