বান্দরবান প্রতিনিধিঃ পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে গণসমাবেশ ও আলোচনা সভা কর্মসূচি পালন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস। দীর্ঘ বছর পর ঘটা করে সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরে রাজার মাঠে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএসমং মারমা, সাধুরাম ত্রিপুরা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ে শান্তি-স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভূমি কমিশন কার্যকর না হওয়ায় ভূমি জটিলতা বাড়ছে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসবে। আলোচনা সভা শেষে একটা রাজার মাঠ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সরকারের পক্ষে পায়রা উড়িয়ে চুক্তির বর্ষপূর্তি পালন করে পার্বত্য জেলা পরিষদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ডিভিশনের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মেহেদী হাসান।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম বিল্লাহ। এছাড়া শান্তি চুক্তির বিভিন্ন ধারা সংস্কারের দাবিতে বাঙ্গালীদের সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদ মুক্তমঞ্চে ও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দল বালাঘাটায় সমাবেশ করেছে। পক্ষে বিপক্ষে এসব সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামীলীগ ও সন্ত লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির মধ্যে চু্ক্তি স্বাক্ষরিক হয়। যা শান্তুি চুক্তি নামে পরিচিত। যার ফলে দুই দশের বেশি সময় ধরে সশস্ত্র সংঘাত অবসান ঘটে। এরপর থেকে জনসংহতি সমিতি ও সরকার ২রা ডিসেম্বরকে চুক্তি প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।