মো. আশরাফুল আলম, ফুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বেসরকারী সংস্থা বেসিক এর উদ্যোগে পূর্ব-চকমথুরা আদিবাসী কমিউনিটি সেন্টারে ৩০ জুন সিধু, কানু -১৬২ তম দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে- পুষ্পস্তবক অর্পন, র্যালী ও আলোচনা সভা শ্রীমন সরেন, আহ্বায়ক সিধু, কানু দিবস উদযাপন কমিটি এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় । সিধু, কানু দিবস উপলক্ষে দক্ষিন ফরিদাবাদ কাসাপুকুর মাঠ থেকে এক বনাঢ্য র্যালি ফরিদাবাদ গ্রাম হয়ে পূর্ব-চকমথুরা আদিবাসী কমিউনিটি সেন্টারে সিধু, কানু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন এর মধ্য দিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে আদিবাসী কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চুন্নু টুডু, সভাপতি, ফুলবাড়ী উপজেলা আদিবাসী উন্নয়ন সমিতি ও আহ্বায়ক, বাংলাদেশ সারি সারনা গাঁওতা। তিনি বলেন সিধু, কানু আন্দোলনের ১৬২ বছর হলো ,আমরা এই সময়ে কি পেলাম, বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের ১১৬ বছর আগে সাঁওতাল জাতির অধিকার রক্ষায় যে লড়াই সংগ্রাম হয়েছিল তার নেতা সিধু, কানু । তাঁরা বিদ্রোহে জীবন দিলেন কিন্তু সাঁওতাল জাতি হিসাবে যে অধিকার পাওয়ার কথা ছিল, তা আমরা আজও পেলাম না। বড় দুঃখের ও পরিতাপের বিষয় রাষ্ট্র আমাদের কৌশলে ক্ষুদ্র-নৃতাত্বিক জাতি গোষ্ঠি হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। আমাদের কৃষ্টি, কালচার, সংস্কৃতি, এমন কি? ভাষা নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে। আমাদের ছেলে মেয়েরা কোন ভাষা নিয়ে, প্রাক-প্রাথমিক পড়াশুনা করবে? সেখানেও আঘাত করা হচ্ছে- আমি সরকার মহোদয়কে স্মরণ করে দিতে চাই, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা, সাঁওতালদের মাতৃভাষা নিয়ে কোন রাজনীতি করবেন না, এর ফল অতিতে যেমন ভাল হয়নি, ভবিষ্যৎ ও ভাল হবে না। আমাদের ছেলে মেয়েদের প্রাক-প্রাথমিক এর বই নিজেস্ব মাতৃভাষায় পড়ানোর যে উদ্যোগ সরকার নিচ্ছেন, তা অব্যশই ভাল, তবে তা’ হতে হবে অলচিকি বর্ণমালায়, কারন পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আদিবাসী শিশুরা অলচিকি বর্ণমালায় পড়াশুনা করছে। আমাদের দেশেও সাঁওতাল আদিবাসী শিশুদের অলচিকি বর্ণমালায় লেখাপড়ার সুযোগ দিতে হবে। আমরা সাঁওতাল জাতি হিসাবে বেঁচে থাকতে চাই। আমাদের জীবনমান উন্নয়নের কথা বলে, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজের জীবনমান উন্নয়ন করেছে, আমি তাঁদের সাধু সাবধান হওয়ার জন্য বলছি। আমাদের আত্ম সামাজিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে নিঃস্ব হচ্ছে, আর আপনারা প্রতি বছর নতুন নতুন প্রজেক্ট দিয়ে দাতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সচেতনতা কোন দিকেই উন্নয়ন করতে পারেন নি। আমাদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে ধর্মীয় রাজনীতি থেকেও আমরা রক্ষা পাচ্ছি না। আজ আমাদের অনেকে, নিজেদের সাঁওতাল জাতি হিসাবে পরিচয় দিতে লজ্জা পায়। আসুন, আমি সকলকে অনুরোধ করছি, আর কোন ভুল করা যাবে না। আমাদের নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি জাতি ও ভবিষ্যৎ নিজেদের গড়তে হবে- সাঁওতাল আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় এক হই, লড়াই করি। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সানজু হাঁসদা, সাধারণ সম্পাদক, ফুলবাড়ী উপজেলা আদিবাসী উন্নয়ন সমিতি, বেসিক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শ্যামল চন্দ্র সরকার, আলোচনা সভা সঞ্চালন করেন ফুলবাড়ী উপজেলা আদিবাসী স্টুডেন্ট ইউনিয়ন এর সভাপতি রাজেন মার্ডী।