Tuesday, September 29

আগামী বছরের ৩০ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করতে চায় কর্তৃপক্ষ!

0

আগামী বছরের ৩০ মার্চে ক্যাম্পাসের সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী বোর্ড সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু করার সম্মতি পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় শিক্ষার্থী মারধরে জড়িত ৭ ছাত্রলীগ নেতাকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার এবং যৌন হয়রানির দায়ে ৫ ছাত্রকে ২ বছর করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় তাদেরকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়।

‘ডাকসু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে কয়েকটা আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের তালিকা হালনাগাদ করার জন্য হল প্রাধ্যক্ষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি প্রভোস্ট কমিটিকে বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটকেও আজকে (গতকাল) বলা হয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনকে নিয়ে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে, আমরা সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

উপাচার্য আরো বলেন, ‘এগুলো কতগুলো নিয়ম-নীতির মাধ্যমে হবে। সেগুলো সুশৃঙ্খলভাবে করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। সিন্ডিকেটও সম্মতি দিয়েছে। আমরাও এ বিষয়টি নিয়ে ভালোভাবে কাজ করছি। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পরপরই হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার কাজ শুরু হবে।’

ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদের কয়েকটি মিটিং হয়েছে। দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় ছাত্রসংগঠনদের নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করা হবে।’

সিনডিকেট সূত্র জানায়, ধার দেয়া ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মেরে রক্তাক্ত করার ঘটনায় ৭ ছাত্রলীগ নেতাকে বিভিন্ন মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে স্থায়ী, ৫ জনকে দুই বছর, ১ জনকে এক বছর এবং সবাইকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃতরা হলেন- শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওমর ফারুক। দুই বছরের জন্য বহিষ্কার হয়েছেন- শাখা ছাত্রলীগের সদস্য সামিউল ইসলাম সামি (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ), সদস্য আহসান উল্লাহ (দর্শন বিভাগ), সহ-সম্পাদক মো. রুহুল আমিন বেপারী (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ), প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপ-সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান হিমেল (উর্দু বিভাগ), সহ-সম্পাদক ফারদিন আহমেদ মুগ্ধ (লোক প্রশাসন বিভাগ)। এদের প্রত্যেকেই দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাছাড়া ঘটনায় প্ররোচনা দেয়ার দায়ে হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলামকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহপাঠীর বিরুদ্ধে অশ্লীল মন্তব্য ছড়ানোর দায়ে পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫ শিক্ষার্থীকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃতরা হলেন- আশিকুর রহমান, হযরত আলী, মোসতাকিম আল মামুন পিয়াল, মো. জহুরুল ইসলাম এবং রাশেদ আহমেদ। এদের প্রত্যেকেই বিভাগটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.