বিএনপির চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের নেতা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন জোটের নেতাকর্মীরা।
আজ বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারর্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশের জেলা ও মহানগরের জোট সদস্যরা নিজ নিজ সুবিধা মত কর্মসূচি পালন করবে। গতকাল সোমবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
শুরুতে অবস্থান কর্মসূচির জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে গতরাত সাড়ে ১০টায় গণমাধ্যমে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় অবস্থান কর্মসূচির স্থান পরিবর্তনের কথা জানানো হয়।
খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে এবং তাঁর মুক্তির দাবিতে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর মধ্যে সোমবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। আগামীকাল বুধবার অনশন কর্মসূচি পালন করবেন দলের নেতাকর্মীরা।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।