Wednesday, November 4

আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন নাজিম উদ্দিন চৌধুরী

0

রাউজানের গহিরার বিপ্লবী নেতা নাজিম উদ্দীন চৌধুরী সেই গতানুগতিক চরিত্রের বিপরীতে আদর্শ ও নীতিতে অটল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। নাজিম উদ্দিন চৌধুরী সদালপী, বিনয়ী, সৎচরিত্রবান, সাহসী, নির্ভীক দেশ প্রেমিক ও আর্দশে অবিচল ছিলেন। নেতৃত্বের সমস্ত গুনাবলী অর্জন করে তিনি সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
নাজিম উদ্দিন চৌধুরী রাজনীতির শুরুতে জাতীয় নেতা মাওলানা ভাসানী, তৎকালীন প্রখ্যাত ছাত্রনেতা কাজী জাফর আহমদ (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) ও আবদুল্লাহ আল নোমান (সাবেকমন্ত্রী) কে অনুসরণ করে বাম ঘরনার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান করে ছাত্র গণঅভূত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
১৯৭১ সালে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে চক্রান্তের কারনে প্রথম দিকে ভারতে কিছুসংখ্যক বামপন্থী ছাত্রনেতা বিপদে পড়ায় এবং ভারত থেকে তৎকালীন বামপন্থী নেতা কাজী জাফর আহমদ ও আবদুল্লাহ আল নোমান থেকে কোন সিগন্যাল না আসায় নাজিম উদ্দিন চৌধুরীসহ অনেকে সীমান্তের ওপারে ট্রেনিং নিতে না পারলেও দেশের অভ্যন্তরে থেকে কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটির নেতা মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে সক্রীয় সংগঠনক হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সসহ এম, এ, পাশ করেন। সাহসী ও প্রতিবাদী এই ছাত্রনেতা ছাত্রঅবস্থায় ছাত্রদের অধিকার আদায়ে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে ছাত্র সমাজকে সংগঠিত করে।
পরবর্তীতে আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগদান করে শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সংগঠিত করার জন্য জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী যুবদল চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি, বিএনপি, রাউজান পৌরসভা ও উপজেলায় সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজনীতির বাইরেও ক্রান্তি, বাংলাদেশ কোরিয়া মৈত্রী সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।
তাদের মত নেতাকে স্মরণ ও অনুসরণ করলে নতুন প্রজন্ম আদর্শবান হিসেবে গড়ে উঠবে, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হবে, সুবিধাবাদীরা দুর্বল হবে এবং গণতান্ত্রিক শক্তি শক্তিশালী হবে। তিনি ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অকালে ইন্তেকাল করেন। উল্লেখ্য ১৯৫৪ সালে রাউজানের গহিরায় একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
লেখক : কলামিষ্ট ও রাজনীতিবিদ

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.