একজন ছোট পুলিশের বড় কীর্তি!

0

অন্যের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিন- পাঠ্যপুস্তকে এমন নীতিবাক্য প্রায় কম-বেশি সবারই পড়া। কিন্তু বাস্তবে কতজন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের বিপদে এগিয়ে যান? আবার কেউ যে করেন না এমন নয়, তবে সেটা খুবই কম। যা কালে ভাদ্রে চোখে পড়ে। এদেরই একজন পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া।

৭ জুলাই শুক্রবার বেলা ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির গৌরিপুর এলাকায় ট্রাফিক সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন পারভেজ মিয়া। হঠাৎ তিনি দেখতে পান অদূরেই সড়কঘেঁষা ডোবায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস উল্টে পড়ে গেছে। দেখা মাত্রই ছুটে যান কনস্টেবল পারভেজ। নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে তৎক্ষণাৎ নেমে পড়েন পঁচা ও দুর্গন্ধে ভরা ডোবার পানিতে।

এরপর ভেঙে দেন ডোবায় পড়া বাসের সব জানালার গ্লাস। এরপর একে একে গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীরা প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের মতে, দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার এই কনস্টেবলের বীরত্বে বড় একটি ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পেয়েছে দেশ।

তবে, কাচ ভেঙেই দাঁড়িয়ে থাকেন কনস্টেবল পারভেজ। পরে নিজেই ঢুকে পড়েন গাড়ির ভেতরে। ডুব দিয়ে বের করে আনেন মাত্র্র ৭ মাস বয়সী একটি শিশুকে। উদ্ধার করেন অন্তত ১২ জন নারী যাত্রীকে। এ সময় স্থানীয় জনগন তাঁকে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেন।

কনস্টেবল পারভেজের বীরত্বের সাক্ষী পেন্নাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার বলেন, “বাসটি ডোবায় পড়ার সাথে সাথেই পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ দ্রুত লাফিয়ে পড়েন পানিতে। সে প্রথমে গাড়ীর গ্লাস ভেঙ্গে দেয় যাতে করে ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীরা সহজে বের হতে পারে। তার বুদ্ধিতে আল্লাহর রহমতে রক্ষা পায় বহু প্রাণ। ”

এদিকে, কনস্টেবল পারভেজ মিয়ার এমন বীরত্বের জন্য কুমিল্লা রিজিওন হাইওয়ে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ ১০ হাজার টাকা এবং শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার তাকে ৫ হাজার টাকা উপহার ঘোষণা করেন।

এদিকে, মিডিয়ার কল্যাণে কনস্টেবলের এমন বীরত্ব উঠে আসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে হিরো হিসেবে আখ্যায়িত করছেন নেটিজেনরা। তাদের কেউ কেউ বলছেন, চকুরির স্ট্যাটাসে তিনি একজন কন্সটেবল, কিন্তু পারভেজ মিয়া আমাদের হিরো!!

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.