মো.আলী আশরাফ মোল্লা: কোভিড ১৯ আক্রান্তের ফলে পুরো বিশ্ব এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। এটি এখন মহামারী রুপে সারা দুনিয়াতে আবিভূত হতে চলেছে। যার দরুন গোটা বিশ্ব এখন নিদারুন ভাবে স্থম্ভিত হয়ে গেছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি দিনই হজার হাজার মানুষ পরপারে চলে যেতে হচ্ছে এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা। আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে ও এর সংক্রমণ খুব দ্রুতই ভয়ংকর ভাবে বেড়ে চলেছে। এই করোনার ব্যাপকতা এখন বাংলাদেশের সর্বত্রই বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশে প্রথম করোণা ভাইরাসের সংক্রামিত রোগী সনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু হয় ২০ মার্চ। তার মাত্র ২৭ দিনের মাথায় আজ (১৭.০৪.২০২০) পযর্ন্ত ৭৫ জন মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর হারের দিক থেকে অনেক বেশী। মোট রোগী সনাক্ত হয় ১ হাজার ৮ শত আট ত্রিশ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, বিশ্বজুড়ে ১৮৫ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস। আজ ১৭ এপ্রিল পযর্ন্ত প্রায় ২২ লাখ ছাড়িয়েছে করোনা ভাইরাস সনাক্ত মানুষের সংখ্যা। আর এই সময়ের মধ্যেই মারা গেছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।
গত বছরের শেষের দিকে ডিসেম্বরে চীনে শুরু হয় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। তার পর এটি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। শুরুর দিকে এটি ইউরোপ ও আমেরিকায় ছিল। পরর্বতীতে মার্চের দিকে এটি এশিয়ার দেশগুলোতে সংক্রমণ ঘটায়। আর এপ্রিলে এসে এটি পুরো বিশ্বজুড়ে চরম ভয়াবহ রুপ ধারণ করে। এখন এই করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে এক মরণ ব্যাধিতে রুপান্তর হয়েছে। যার ফলে সারা বিশ্ব জুড়ে এখন মানুষ আতংক আর উৎকন্ঠার মধ্য দিয়েই দিন পার করছে।
এই মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস থেকে উত্তরণের কোন সহজ সমাধান নেই। তবে বিশ্বব্যাপী যেটি প্রতিরোধের প্রথম এবং কার্যকরী উপায় সেটি হচ্ছে ঘরে থাকা। জন সমাগম এড়িয়ে চলা। গনপরিবহন ব্যবহার না করা। আসুন আমরা সবাই সরকার নির্দেশিত বিষয় গুলি মেনে চলি,ঘরেই বাহিরে না যায়। নিজে নিরাপদ থাকি এবং অন্যকে ও নিরাপদ রাখি।
লেখকঃ সাবেক সাধারণ সম্পাদক,
জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি ও পুলিশ কর্মকর্তা।