বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়া দেশের ১৬ কোটি মানুষের জনপ্রিয় নেত্রী। দেশের মানুষকে মামলা হামলা দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। এ দেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করে নয়ে আসবে। এ লড়াই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লড়াই। জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়েই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা দেউলিয়া হয়েছে বলেই আজকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও প্রায় ১৫ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।
আজ সারা দেশে নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এমামলা হামলা দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’ তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় পাঁচ বছরের জেল দেয়া হয়েছে। তাকে পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে। এ জন্য তাদের বিচার হবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে সরকার মনে করছে বাংলাদেশের মানুষকে স্তব্ধ করা যাবে, দমিয়ে রাখা যাবে। সেটা যাবে না। দেশের মানুষ অবশ্যই কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিয়ে আসবে। তিনি ১৬-১৭ কোটি মানুষের নেত্রী, এখনও যখন রাজপথে আসেন তখন লাখ লাখ মানুষ তার পেছনে থাকেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাদের এই সংগ্রাম, এই লড়াই গণতন্ত্রকে মুক্ত করার লড়াই। খালেদা জিয়ার মুক্তির লড়াই। বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করার লড়াই।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আজকের অবস্থান কর্মসূচি।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও মির্জা আব্বাস।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এতে আরও উপস্থিত আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জয়নাল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব ও আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও শহীদুল ইসলাম বাবুল, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহসম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ছাত্রদলের সহসভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান প্রমুখ।