ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সমর্থন না পেলেও গাজায় যুদ্ধ চালবে । তিনি জানায়, তারা গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন এবং কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘বিজয় অর্জন এবং হামাসকে নির্মূল না করা পর্যন্ত ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। কোনো কিছুই আমাদের থামাতে পারবে না। আমরা শেষ পর্যন্ত যাব, বিজয় পর্যন্ত। এর চেয়ে কম হবে না।’
ইসরায়েলের হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি বেসামরিক ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে চরম মানবিক সংকট তৈরি হওয়ায় বিশ্বের চাপের মুখে রয়েছে ইসরায়েল। গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানায়, আন্তর্জাতিক সমর্থন থাকুক বা না থাকুক, তারা গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। তার দাবি, এই মুহূর্তে গাজায় যুদ্ধবিরতি হলে সেটি হামাসের হাতে একটি ‘উপহার তুলে’ দেওয়ার মতো হবে এবং তারা আবারও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও বলেছেন, গাজায় নির্বিচারে বোমা হামালার কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাচ্ছে।
গাজায় চলমান ইসরায়েলের হামলা নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক সর্বকালের সবচেয়ে তলানিতে এসে ঠেকেছে।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে গত মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) ১০ সেনা সদস্যকে হারিয়েছে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে একজন লেফট্যানেন্ট কর্নেলও রয়েছেন। গাজায় স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য এটি ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর দিন।
এই সংঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপনের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসছে এবং এর মাধ্যমে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট।
জাতিসংঘ এবং অনেক দেশ মনে করে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। কিন্তু পশ্চিম তীরে বসবাসরত ইসরায়েলিরা সেটির চরম বিরোধিতা করে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নেতানিয়াহু সরকারের প্রধান এজেন্ডা। কিন্তু এ বিষয়টি ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বড় বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল বুধবার গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। একই সঙ্গে প্রবল বৃষ্টির কারণে তাবুতে বসবাসরত বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্দশায় পড়েছে।
জাতিসংঘের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনি এলাকায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে এবং জনবহুল আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে গেছে।