আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো ২১-এ ফেব্রয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি। ২১ মানে মাথা নত না করা একুশ মানে মাতৃভাষার প্রতি সম্মান। ২১ এর চেতনা নিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের অবহেলিত শিশুদের সাথে দিনটি পালন করেছে আলোর আশা ফাউন্ডেশন। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে প্রায় ৪৫ জন পথ শিশুর জন্য দিনটি ছিল অন্যরকম। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের অবহেলিত শিশুগুলো যারা আমাদের দেশের নাগরীক। অথচ তারা জানেনা ভাষা দিবস কী? তারা জানেনা ১৬ ই ডিসেম্বর কী? যেখানে আজ প্রতিটি বাঙ্গালি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে সেই শহীদের যাদের আত্মত্যাগেই পেয়েছি আমাদের এই বাংলাদেশ। কিন্তু আগামী দিন যাদের হাতে যাদের হাতে এই দেশ তারা আজ অবহেলিত। আমাদের নতুন প্রজন্মের শিশুরা, যাদের ঠিকানা কোন বস্তি বা রাস্তার ধার, যারা এক বেলা খাবারের খোঁজে সারাদিন ঘুরে ফিরে,সেই আবহেলিত পথশিশুরা কি পরিচিত এই মহান মানুষ গুলোর সাথে। যাদের কারনে আজ আমরা আমাদের মায়ের ভাষা বাংলায় কথা বলতে পারছি?
এই সব প্রশ্নের উত্তর জানানোর জন্য তাদের কাছে যায় আলোর আশা ফাউন্ডেশন। ও ক্যামেরাম্যান শরীফ রানা।পথশিশুরাও যেন জানতে পারে সেই মহান মানুষগুলোর সম্পর্কে, ধারণ করতে পারে ২১ এর চেতনা। সেই সাথে তারা যেন হতে পারে একজন সচেতন নাগরিক। হয়ত ফুল হাতে প্রভাতফেরি ওঠার সুযোগ হয়নি এই শিশুদের, এমন শিশুদের সাথে নিয়েই সংগঠনটি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সকল শহীদদের প্রতি। পরিচয় করিয়ে দিয়েছে সকল ভাষা শহীদদের ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মহান আল্লাহ তায়ালার। যার রহমতে আজ আমরা বাঙ্গালি। প্রায় ৪৫ জন শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ ও তাদের জন্য আয়োজন করা হয় বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান” এসো একুশের চেতনায় সাজাই শৈশব” যেখানে ছিল, বাংলা ভাষার ইতিহাস, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা, দেশাত্মবোধক সংগীত,ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার হিসাবে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ। সকল শিশু প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করে।
বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের পূর্বে শিশুদেরকে সংস্থার প্রধান আনোয়ার এলাহী ফয়সাল কিছু দিকনির্দেশিনা দিন। আমরা কখনো মিথ্য বলবো না, আমরা কখনো অন্যায় কাজ করবো না। এমন কোন কাজ করবো না যা দ্বারা অন্যের ও সমাজের ক্ষতি হয় ইত্যাদি। ও আমরা ভিক্ষা চাইনা আমরা শিক্ষা চাই। এবং শিশুরা শপথ বাক্যে অংশগ্রহণ করে।এ সময় উপস্থিত ছিল রবিন, তাহমিদ, তৌহিদ, শান্ত, সাঈম, নোমান সহ আরো অনেক সদস্যবৃন্দ। তারাও বলে আমরা আছি তোমাদের পাশে যতটুকু পারি আমরা করবো ইনশাআল্লাহ।
এরপর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন সংস্থার সদস্য বৃন্দ। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় প্রথম হয় ৮ বছরের শিশু তাসলিমা। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাংবাদিক বখতিয়ার হোসেন ও সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম।সঙ্গীত প্রতিযোগিতাতে প্রথম হয় মোহাম্মাদ শাহীন, তার হাতে পুরস্কার তুলে দিন ফরিদ উদ্দীন ও কায়য়ূম হাওলাদার। ছড়াতে প্রথম হয় সুমাইয়া তার হাতে পুরস্কার তুলে দিন সংস্থার প্রধান আনোয়ার এলাহী ফয়সাল ও ইফতেখার মারুফ। এছাড়া সেরা শিক্ষার্থী ঘোষণা করা হয় এতিম শিশু শেরিণা আক্তারকে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন রণি দাশ যিনি দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের জন্য কাজ করে আসছেন। যাবতীয় কার্যক্রম শেষে কয়েকজন এতিম শিশুর যাবতীয় পড়াশুনার দায়িত্ব নেন সংস্থাটি। ছবি গুলো তুলেছেন শরীফ রানা।