চীনের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুন হাতোর আঘাতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও এ ঘটনায় কয়েকশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
চীনা সংবাদ মাধ্যম পিপলস ডেইলি স্থানীয় আবহাওয়া ব্যুরোর বরাতে জানায়, বুধবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় হাতো গুয়াংডং প্রদেশের ঝুহাই শহরের স্থলভাগে আঘাত হানে। এটি স্থানীয় পার্ল নদীর মোহনায় ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতি তীব্র বাতাস সৃষ্টি করে যার ফলে আশেপাশের এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি বয়ে আনে।
জাপানি শব্দ ‘হাতো’ (কবুতর’) নামের টাইফুনটির হংকংয়ের নিকটবর্তী এলাকা ম্যাকাও পার হওয়ার সময় এর আঘাতে আটজন নিহত হয়। টাইফুনের কারণে ম্যাকাও জুড়ে দুপুর ২টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাতোর আঘাতে চীনের মূলভূখণ্ড গুয়াংডংগে চারজন নিহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
টাইফুনের কারণে ২৬ হাজার ৮১৭ লোককে সরিয়ে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আঘাতে ৬৬৪ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়রে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এত প্রায় ১৯ লাখ ১০ হাজার পরিবারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। পরে বুধবার রাতে অর্ধেক পরিবারে বিদ্যুৎ ফিরে আসে।
ঝুহাইতে ঘূর্ণিঝড়ের প্রচণ্ড বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে একটি জাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এছাড়া একটি উপকূলীয় মহাসড়কের সেতু ভেঙে যায়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ভূমিধস, বন্যা এবং অন্য ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর নাগাদ দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় সায়ত্ত্বশাসিত এলাকা গুয়াংশি ঝুয়াং এলাকা পার হওয়ার কথা জানিয়ে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।