Monday, September 28

চীন জ্বালানি খাতে ৫৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বাংলাদেশকে

0

বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে ৫৫ কোটি ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ চার হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে চীন।‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল মুরিং উইথ ডাবল লাইন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনতে পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়। সক্ষমতা বাড়ানো হবে ইস্টার্ন রিফাইনারির। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে চীন সরকারের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম চুক্তিতে সই করেন। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তরল জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য আনতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আমদানি করা তরল জ্বালানি বড় জাহাজ থেকে নামাতে ছোট জাহাজ প্রয়োজন হবে না। এর ফলে সিস্টেম লসের পরিমাণ কমে আসবে।

কমবে তেল আমদানির ব্যয়ও। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে চীন সরকারের নমনীয় ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে আট কোটি ডলার। ৪৭ কোটি ডলার পাওয়া যাবে বায়ার্স ক্রেডিট হিসেবে।
চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের বড় একটি প্রতিষ্ঠান। বছরে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার টার্নওভার হলেও প্রতিষ্ঠানটির কাজ তেল আমদানি ও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ। এবারই প্রথমবারের মতো একটি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং টার্মিনাল প্রকল্প বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।

এ বিষয়ে চুক্তি হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার আরো বড় আকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে উৎসাহিত হবে বলেও তিনি মনে করেন। তিনি জানান, সরকার সারা দেশে গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। তা ছাড়া উপকূলে দুইটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব কাজে উপযুক্ত অংশীদার অনুসন্ধান করছে সরকার। এসব প্রকল্পে চীন সরকার ভালো অংশীদার হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ভোলায় নতুন সন্ধান পাওয়া গ্যাস সম্পর্কে নসরুল হামিদ বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এসব বিষয়ে চীনকে সহায়ক হিসেবে পাশে পেতে চায়। বিদ্যুৎ খাতের ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ডিপিডিসি) ও পাওয়ার গ্রিড কম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের দুই বড় প্রকল্পে চীন অর্থায়ন করবে বলেও তিনি জানান।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামে তৈরি হবে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং টর্মিনাল ও স্থাপন করা হবে ডাবল পাইপলাইন। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারবে ইস্টার্ন রিফাইনারি। নতুন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক সক্ষমতা ৪০ লাখ টনে উন্নীত হবে।

চীনের রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রকল্পটির গুরুত্ব অপরিহার্য। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে প্রতিবছর দেশের প্রায় ১০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে। জাহাজ থেকে তরল জ্বালানি খালাসের সময়ও অনেক কমে আসবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.