‘আমাদের সরকার শিক্ষাকে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। শিক্ষা কেউ কেড়ে নিতে পারে না, শিক্ষা ছিনতাই করা যায় না, লুট করতে পারে না- এই একটা সম্পদই নিজের সম্পদ। কোনো ধন সম্পদ কাজে আসে না, একটা জিনিসই কাজে আসবে আর সেটা হচ্ছে শিক্ষা।’ জাতি গঠন ও দারিদ্র্য বিমোচন করতে হলে শিক্ষাই হচ্ছে একমাত্র হাতিয়ার। একমাত্র শিক্ষিত জাতিই পারে একটি দেশকে দারিদ্র মুক্ত করতে।’
আজ রোববার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ ২০২৩-২৪ এর নির্বাচিত ফেলোদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর সাথে সমান তালে এগিয়ে যাবে। আমরা কোনোভাবেই পিছিয়ে যাব না। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা যখন আবারও সরকারে ফিরে আসি তখন আমি প্রথমেই গবেষণার উপর সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেই। শিক্ষা গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকেও গবেষণার জন্য ফেলোশিপ বা স্কলারশিপ দেওয়া শুরু হয়। সেই সাথে আমি প্রধানমন্ত্রী ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করি। যার মাধ্যমে আমরা সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আগে একটি মাত্র টেলিভিশন ছিল, একটা মাত্র রেডিও ছিল। কিন্তু আমরা সেটা সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতে দিয়ে দেই। আমাদের কোন ডিজিটাল টেলিফোনই ছিল না, সব এনালগ ছিল। আমি ক্ষমতায় এসে সব টেলিফোন ডিজিটাল করে দি। সেই সঙ্গে মোবাইল ফোন বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিয়ে সকলের হাতে যাতে যায় সে ব্যবস্থা করি।’
বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণায় আওয়ামী লীগ সরকার গুরুত্ব দিয়েছে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশের অগ্রযাত্রা বন্ধ করে দেয়। বিএনপি ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের সব গণমুখী কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যখন দেশের দায়িত্ব নেই, তখন সকলের কথা বিবেচনা করতে হয়। কে কাকে ভোট দেবে এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। এটা তার অধিকার, তার ভোটের অধিকার। কিন্তু সেবাটা মানুষ পাবে না কেন?’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প হাতে নিয়ে ছিলাম, যা পরে নাম রাখা হয় আমার বাড়ি আমার খামার। এ প্রকল্প করার কারণ ছিল যাতে এক একটা পরিবার যদি উঠে দাঁড়াতে পারে, সেই পরিবারকে ঘিরে তারা উৎপাদন বাড়াবে, ওই পরিবারকে ঘিরে আশেপাশের আরও মানুষের কাজের সুযোগ হবে, প্রত্যেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেটা বন্ধ করে দিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যে কাজগুলো মানুষের কল্যাণে করি, সেগুলো যদি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় সেটা আমাদের দেশেরই ক্ষতি। তাই এবার আমি আলাদা পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমি আলাদা ট্রাস্ট ফান্ড করে দিয়েছি।’