Sunday, September 20

তালের আত্বজীবনী

0

মিলন খান, খোকসা প্রতিনিধি: কথিত আছে তালগাছ বয়স্কদের দিয়ে লাগাতে হয়! কারন যে তালগাছ লাগায় সে নাকি ফল খেয়ে যেতে পারেনা! এজন্য কেউ ছোটদের দিয়ে তালগাছ লাগাতে চায়না। তালগাছের জন্ম থেকেই ব্যবহার শুরু। প্রথমে তালের পাতা দিয়ে পাখা তৈরি আর তার উপর মনের যত কথা লেখা যেন সবাই কবি! তালের ডগা পচিয়ে আঁশ দিয়ে মাছ ধরার যন্ত্র বানানো এখন অবশ্য চর অঞ্চলেই দেখা যায়।
তালের জট থেকে রস খুবই উপকারী। আবার এই রস পচিয়ে নাকি তারি বানিয়ে খায় যা মদ এর বিকল্প। আবার রস দিয়ে তালমিছড়ি তৈরি হয় যা কাশির ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তালগাছ আমাদের ছায়া অক্সিজেন দেয় এবং পাখির বাসার জন্য বিশেষ করে বাবুই পাখির জন্য ভাল বাসস্থান। তালগাছ সবসময় একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং অল্প জায়গা দখল করে। এর নিচে অন্য গাছ লাাগানো যায়।

এবার আসি তালের জীবনে: তাল যখন গাছে ধরে তখন দেখতে সুন্দর লাগে। একটু বড় হলে তালের আঁটি খাই যা তালশাস নামে পরিচিত মূল তাল ফেলে দিই। আর একটু বড় হলে তাল অখাদ্য হয়ে যায় এর কোন অংশই খাওয়া যায়না। তাল পাকলে তালশাসের ফেলে দেওয়া চামড়া আমাদের সুস্বাদু খাদ্য হয় যা দিয়ে মজার পিঠা বানিয়ে খাওয়া যায়। আঁটি তখন অখাদ্য হিসেবে ফেলে দিই। এই ফেলে দেওয়া আঁটি কিছুদিন পর মাটিতে শিকড় ছাড়ে। মাটি থেকে আঁটি না তুললে নতুন তালগাছ জন্ম নেয়। আর তুললে তখন আঁটি মানুষের খাদ্য হয়। মানুষ আঁটির ভিতরের অংশ মজা করে খায়! আঁটিটা দুইভাগ করে রোদে শুকিয়ে রান্নার কাজে লাগায়। সেই ছাই মাটির গর্তে ফেলে দেয় যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। পাকা তালগাছের কাঠের বহুমুখী ব্যবহার আছে। এভাবেই তালগাছ তার জীবন মানুষের জন্য উৎসর্গ করে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.