তিস্তার পানি বিপদসীমার উপরে

0
দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তানদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ৩ দফায় তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ বাড়তে থাকে। পানি বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা নদী বেষ্টিত প্রায় ৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। তিস্তা ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাত ১২টার পর তা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছে তিস্তা পাড়ের বন্যা দুর্গত এলাকার লোকজন।

এদিকে তিস্তা বন্যায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২৫টি চর ও গ্রামের ১৫ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলার নদীবেষ্টিত চর ও গ্রামগুলোও প্লাবিত হয়েছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চরের নিচু অঞ্চলের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। নিচু অঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
তিস্তার পানি বিপদসীমার উপরে

পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান জানান, তার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের সব এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। নদীসংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে মানুষজন সরে আসতে শুরু করেছে। তবে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে মানুষজনকে সরে আসতে বেগ পেতে হচ্ছে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ফরেস্টের চরের অধিকাংশ বাড়ি হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে।

খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, কিছামত ছাতনাই গ্রামের তিস্তার চরাঞ্চলের বসতবাসরতদের বসতভিটা হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে।

এসব বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে সোমবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টায় তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপরে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক খালেদ রহীম ও ডিমলা উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বেলা ১১টায় তিস্তা এলাকা পরিদর্শন করবেন।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, তিস্তার বর্তমান পরিস্থিতিতে সার্বিক নজর দিচ্ছে প্রশাসন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.