থানচিতে কয়েকমাস ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু

0

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ বান্দরবানে থানচি উপজেলায় সাঙ্গু নদীতে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত লাখ লাখ ফুট বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি চক্র। কোনোরকম সরকারি ইজারা ছাড়াই প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি করে কয়েক মাস ধরে চলছে বালু তোলার মহোৎসব। এতে নদীর পার্শ্ববর্তী পাড় ভেঙে বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পরিক্রমায় পাশাপাশি নদীর কিনারে শীত মৌসুমে উৎপাদিত ফসলি ক্ষেত ভাঙ্গনসহ হুমকি মুখে পড়েছে। তাছাড়া হারাতে বসেছে পরিবেশ ভারসাম্য ও ওই এলাকার জীব বৈচিত্র। দীর্ঘদিন ধরে বালি উত্তোলনের বন্ধের প্রতিকার চেয়েও পায়নি বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে থানচি উপজেলার আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক থানচি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মালেরাং ত্রিপুরা নেতৃত্বে তার সহযোগী থানচি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অনিল ত্রিপুরা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা উচহাই মার্মা, স্থানীয় প্রভাবশালী ক্রাপ্রুঅং মারমা, বলিপাড়া নুরুল ইসলাম এবং বলিপাড়া ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য উচনুমার্মাসহ আরো কয়েকজন মিলে থানচি আম বাগান পাড়া, থানচি বাজার ঘাট, থানচি হাসপাতাল বিপরীতে সাঙ্গু নদীর ঘাট, জিনিঅং পাড়ার ঘাট, বলিপাড়া ডাকছৈ ঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাসহ সংঘবদ্ধ চক্রটি মিলেমিশে এলাকায় প্রভাব খাতিয়ে এই বালু তুলে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, মাসখানেক ধরে প্রতিদিন ড্রেজার মেশিন দিয়ে কয়েক লাখ ফুট সাঙ্গু নদীর থেকে বালু উত্তোলন করা হয়। বিক্রি উদ্দেশ্যে বালিগুলি স্তূপ করে রাখছি।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রুথোয়াইচিং মার্মা বলেন, সিন্ডিকেট চক্রটি মিলে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এলাকার মানুষজন ভয়ে কেউ তাদেরকে বাধা দেয় না। বালু উত্তোলনের কারণে সাঙ্গু নদীর পার এখন ঠিক থাকলেও পরে তা ভাঙতে পারে। ভবিষ্যতে চর ভেঙে গেলে বিশেষ করে বাদাম চাষীরা বড় ধরনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মংমে মার্মা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা মিলে গতবছরও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছে। এ বছরও কয়েকটা স্পট থেকে বালু উত্তোলন করছে বলে শুনেছি। বালু উত্তোলনের কারণে সাঙ্গু নদীর পার ভেঙে যাওয়াসহ পরিবেশের ক্ষতি সম্মুখীন হতে পারে।

বালু উত্তোলন বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে মালেরাং ত্রিপুরা বলেন, প্রশাসনে কোন অনুমতি ছাড়া আমরা কয়েকজন মিলে সাঙ্গু নদী থেকে বালি উত্তোলন করছি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে থানচি উপজেলার পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো কাজ কর্ম নাই। এতে পরিবারে ভরণপোষণ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে সরাসরি দায়িত্ব না থাকলেও বালু উত্তোলনের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কোনো প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা অধিকার রাখে। সে সুবাধে অভিযান চলমান থাকবে।

থানচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) রাকিব হাসান চৌধুরী বলেন, বান্দরবানে কোন এলাকায় বালু উত্তোলনের কোন অনুমোদন নেই। এর আগেও এইসব এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের স্পটে অভিযান করেছি। কয়েকটা ড্রেজার মেশিনসহ বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম পুরিয়ে দেয়া হয়েছে। থানচি উপজেলা ছোট এলাকা হওয়ার অভিযানে যাওয়ার আগেই তারা (বালু খেকোরা) খবর পেয়ে যায়। বালু উত্তোলনের স্পটগুলোতে গেলে কাউকে পাওয়া যায় না।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.