পর্যটনে এক ব্যবস্থাপকের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় নেই কোন তদন্ত

0

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ডিএফও ব্যবস্থাপক নিজাম হায়দারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠলেও কোন তদন্ত না হওয়ায় অনেকের ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, নিজাম হায়দার পর্যটন কর্পোরেশনে দায়িত্ব পেয়ে একের পর এক দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন মর্মে অনেক কর্মচারীরা অভিযোগ দিলেও তার বিরুদ্ধে কোন অদৃশ্য কারনে তদন্ত হয়না। যার ফলে সে নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করে তার অধিনস্তদের উপর ইচ্ছেমতো তার ক্ষমতা ব্যবহার করেন । পর্যটনের এক কর্মকর্তা সুত্রে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন অফিসার্স এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি করতে পারেন না বলে জানা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, চেয়ারম্যান ম্যাডামের পরিবারের সাথে সে একটা সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে। চেয়ারম্যান মহোদয়ের স্বামী অসুস্থ হলে নিজাম হায়দার পারিবারিক সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তাই চেয়ারম্যান মহোদয় উনার প্রতি সবসময় সদয় থাকেন। উনার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তিনি আমলে নেন না। মোশারফ হোসেন নামে দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এক উচ্চমান সহকারীর সাথে করা দুব্যর্বহার ও তাকে চাকুরীচ্যুত করা ও এই ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ দিলেও চেয়ারম্যান মহোদয় তা আমলে না নেয়ায় তিনি বেপোরোয়া হয়ে উঠছেন। এ নিয়ে পর্যটনে অনেক কর্মচারীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কয়েক কর্মচারী প্রতিবেদককে বলেন, এই অফিসে এখনো ফ্যাসিষ্ট আমলের কয়েকজনের কারনে পুরো অফিসটা জিম্মি হয়ে আছে। জানা যায়, মোশারফের প্রতি বিরাগভাজনের কারনে তার চাকুরীচ্যুতির কোন কারণ না থাকায় ব্যবস্থাপক মোশারফের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ সৃষ্টি করার জন্য তিনি তার হিতাকাঙ্খিদের অনুরোধ ও তোষামোদ করছেন। কারন মোশারফ ব্যবস্থাপকের আস্থাভাজন না হওয়ায় দৈনিক ভিত্তিতে উচ্চমান সহকারী পদে তার চাকুরী অনিশ্চিত হয়ে আছে।
এ বিষয়ে এক ভুক্তভোগী মোশারফ বলেন, ব্যবস্থাপক সাহেব আমার ডিউটি বন্ধ করে আমাকে বদলী করে দিয়েছেন বলে জানান। অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকায় কোন ইউনিটে যোগদান করবো বলেও জানান। অদ্যবিধি আমার যোগদান বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বিধায় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখেছি তাতেও কোন কাজ হয়নি। কি দোষে আমাকে চাকুরীচ্যুত করেছে, তার কোন কারণ দর্শানো নোটিশও আমাকে দেয়নি তারা। আমি এই সেক্টরে সততার সাথে দির্ঘ সময় চাকুরী করার পর উনার কুটনৈতিক চালের কারনে চাকুরী হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানষিক হতাশাগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। গত ২৩ শে জানুয়ারী আমি চেয়ারম্যান মহোদয়ের বরাবরে ব্যবস্থাপকের বৈষম্য ও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করেছি। পুনরায় গত ২৯শে জানুয়ারী আমার নিয়োগকে বিবেচনা করার জন্য চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিকট আবেদন করেছি। আশা করি আমার পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে আমাকে চাকুরীতে পুর্নবহাল করবেন।

এ বিষয়ে রুপপুর প্রকল্পের ইউনিট ম্যানেজার মোঃ মনোয়ার ফেরদৌস খন্দকারকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন মোশারফের চাকুরীটা দৈনিক ভিত্তিতে। ছেলেটা কর্মজীবনে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেন তাকে বাদ দেয়া হলো তা জানিনা। তবে ব্যবস্থাপক নিজাম হায়দার সাব চাইলে এর একটা বিহীত হতে পারে। বিষয়টা আমার জিম্মায় নাই। আশা করি নিজার হায়দার সাহেব তার পরিবার ও তার কর্মহীন জীবনের চিন্তা করে তার চাকুরীর পুর্নবহালের বিষয় ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে ব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দিন হায়দারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি চাকুরীকালিন সময়ে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছি। আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি থাকলে তা আমার কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে।

এ বিষয়ে পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সায়মা শাহিন সুলতানাকে প্রশ্ন করতে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.