
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গীর।
পাকিস্তানের খ্যাতনামা আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গীর মারা গেছেন। পাকিস্তানে সামরিক জান্তাদের বিরুদ্ধে বরাবরই স্পষ্টভাষী এই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ৬৬ বছর বয়সে গতকাল (১১ ফেব্রুয়ারি) রবিবার পাকিস্তানের লাহোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে সংঘটিত বর্বরতার জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্রকে ক্ষমা চাওয়ানোর দাবিতে সোচ্চার ছিলেন আসমা জাহাঙ্গীর। একাত্তরে নির্যাতিত বাঙালির পক্ষে যেসব পাকিস্তানি দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আসমার বাবা মালিক গোলাম জিলানী।
নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে শোক প্রকাশ করে পোস্ট দেন চিত্রনাট্যকার-গীতিকার জাভেদ আখতার, প্রখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমি, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মহেশ ভাট, পরিচালক-অভিনেত্রী নন্দিতা দাস প্রমুখ।
জাভেদ আখতার লেখেন, সন্দেহাতীতভাবেই মানবাধিকারের সবচেয়ে সাহসী আর প্রাণবন্ত যোদ্ধা তিনি। একনায়কতন্ত্র আর মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে উচ্চকিত কণ্ঠস্বর আজ চিরবিদায় নিলেন। অনেক বড় একটা ক্ষতি হয়ে গেল।
আসমা জাহাঙ্গীরকে ‘বন্ধু’ আখ্যায়িত করে শাবানা আজমি তাঁর ট্যুইটার হ্যান্ডেল লেখেন, কেবলই এই বিধ্বংষী খবরটা শুনলাম। পাকিস্তান তার সবচেয়ে নির্ভীক ধর্মযোদ্ধা আর মানবাধিকারকর্মীকে হারাল। পাকিস্তানের এই সর্বোচ্চ মানুষটি ও তাঁর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি।
‘তাঁর মৃত্যু একটা বড় রকমের ক্ষতি’ মন্তব্য করে পরিচালক-অভিনেত্রী নন্দিতা দাস তাঁর ট্যুইটার পোস্টে লেখেন, প্রতিবেশী দেশের জন্য এটা অনেক বড় একটা ক্ষতি। আমি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি ছিলেন একজন সত্যাশ্রয়ী, প্রতিবাদী। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি মানুষের জন্য, দেশে শুদ্ধ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে গেছেন।
আসমা জাহাঙ্গীরকে ‘সাধারণ মানুষের পক্ষের অসাধারণ যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে পরিচালক মহেশ ভাট তাঁর ট্যুইটার হ্যান্ডেলে লেখেন, এই সর্বদা ভীত পৃথিবীতে একটি সাহস আর স্পর্ধার নাম ছিল আসমা জাহাঙ্গীর। আপনাকে ধন্যবাদ, আমাদের জীবনকে আপনার কাজ দ্বারা প্রভাবিত করার জন্য।
পাকিস্তানি অভিনয়শিল্পী মাহিরা খান ও আলী জাফরও এই অসম সাহসী নারীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
আসমা জাহাঙ্গীর ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কিনাইআর্ড কলেজ থেকে স্নাতক ও পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়শনের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এ ছাড়াও পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।