বয়স-অসুস্থতা-সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আর্জি জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করেছেন।
আজ রোববার দুপুরে থেকে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন আবেদনের শুনানি চলছে। সেখানে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি তুলে ধরেন।
এর আগে দুপুর ২টা ১২ মিনিটে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিম বেঞ্চে বসেন। তখন আদালতকক্ষ ছিল আইনজীবীতে পরিপূর্ণ। কোথাও কোনো তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। আইনজীবীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলায় কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। আইনজীবীদের ভিড়ের কারণে এজলাস থেকে বের হয়ে যান বিচারপতিরা।
এ অবস্থায় আদালত দুই পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আদালত কক্ষ কানায় কানায় আইনজীবী দিয়ে পূর্ণ। এ রকম হলে তো শুনানি করা যাবে না।’
তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলা। আইনজীবীরা কেউ কোনো শব্দ করবেন না।’
আদালত বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে প্রেশার তৈরির একটা চেষ্টা।’ তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘না, না। আইনজীবীরা কেউ কোনো আওয়াজ করবেন না।’
আদালত এই পর্যায়ে বলেন, ‘তাহলে আপনার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা কক্ষে থাকেন। বাকিরা বাইরে চলে যান।’
তখন জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এই জামিনে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল একাই শুনানির ক্ষমতা রাখেন।’
আদালত তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা কক্ষ খালি করুন। আমরা ১০ মিনিট পর এজলাসে বসব।‘
পরে এজলাসের ভেতর থেকে দুই বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান। আদালত কক্ষ থেকে জুনিয়ার আইনজীবীরা বেরিয়ে যান। আড়াইটায় ফের আদালত বসলে জামিনের শুনানি শুরু হয়।
খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন। স্থগিত করেন খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম। খালেদার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।