ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার।নামের আগে-পরে ‘আওয়ামী’, ‘লীগ’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ যুক্ত করে ২০০৯ সালের পর যেসব সংগঠন গড়ে উঠেছে, এর প্রায় সবই ভুঁইফোড় বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমে এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের উদ্যোক্তাদের কর্মকাণ্ড ও সম্পদের খোঁজ নেওয়া হবে। সরকার বা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে কারা এসব সংগঠনের পেছনে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন, সেটাও খোঁজা হবে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে । পরে তাঁর মালিকানাধীন জয়যাত্রা আইপি টিভি ও জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ভবনে অভিযান চালায় । সূত্র বলছে, এর মাধ্যমে ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা শুরু হলো।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ এ নিয়ে তিনবার সরকার গঠন করেছে। প্রতিবার নির্বাচনের আগে বা সরকার গঠনের পর কিছু সংগঠন গজিয়ে ওঠে। মূলত মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া কিংবা বাদ পড়া এবং দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের কেউ কেউ এসব সংগঠনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকেন। কেউ কেউ আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ২০১৫ সালে দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে শতাধিক সংগঠনের তালিকা গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘আমরা মাঠে রাজনীতি করি। এসব ভুঁইফোড়, স্বার্থান্বেষীরা কখন কোথায় ছবি তুলে বসে সেই আতঙ্কে থাকি।’ তিনি বলেন, এসব ভুঁইফোড় সংগঠন আওয়ামী লীগকে বিব্রত করছে। তাদের বিরুদ্ধে দল কঠোর। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কয়েকটি সংগঠন আওয়ামীলীগের দুর্দিনে ও মুক্তিযুদ্ধের মতাদর্শ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এসব সংগঠন আওয়ামী লীগের সহযোগী কিংবা ভ্রাতৃপ্রতিম মর্যাদা না পেলেও দলের নীতিনির্ধারকেরা মর্যাদার চোখে দেখেন। তাঁদের কর্মকাণ্ডকে মূল্য দেন। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, শেখ রাসেল শিশু-কিশোর ও বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলাসহ কয়েকটি সংগঠন বেশ পুরোনো।
এর বাইরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো সংগঠন করতে হলে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’–এর অনুমোদন নিতে হয়। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাসংক্রান্ত সংগঠনের ক্ষেত্রে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অনুমোদন দিয়ে থাকে। কিন্তু ভুঁইফোড় সংগঠনগুলো অনুমোদনের ধার ধারে না।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সহযোগী সংগঠন আটটি। এগুলো হচ্ছে যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ ও তাঁতী লীগ। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন রয়েছে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ।