ন্যাশনাল ডেস্কঃ চট্টগ্রামে জনসমুদ্রের মহাসমাবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৯৬ সালে খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিল, ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিল বলেই জনগণ তাকে মেনে নেয়নি। ভোট চুরি করলে জনগণ মেনে নেয় না। ওরা ভোট চুরি করেই ক্ষমতায় আসতে চায়। গণতান্ত্রিক ধারা তারা পছন্দ করে না। গণতন্ত্র আছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা তিনটা ৫ মিনিটে পলোগ্রাউন্ডের জনসভাস্থলে এসে পৌঁছান। ভাষণ শুরুর আগে দুরবিন দিয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে কতো মানুষ তা দেখে নেন এক পলকে। তারপর মাইকে এসে চট্টগ্রামের ভাষায় বলেন, ‘অনারা ক্যান আছন, বেইয়াগগুন গম আছননি। পেটু পুরেদে, তাই চাইতো আসসি (চট্টগ্রামের মানুষ আপনারা কেমন আছেন। সবাই ভালো আছেন-তো, পেট পুরে তাই আপনাদের দেখতে এলাম)।’
তিনি বলেন, বিজয়ের মাসে আমি আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি। ২৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিজয়ের মাসে এগুলো চট্টগ্রামবাসীর জন্য আমার উপহার। বক্তব্য শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জনসভায় ২৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন চারটি প্রকল্পের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষের জন্য ২৯টি প্রকল্প উদ্বোধন করেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় হালদা নদী ও ধুরং খালের তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি ও রাউজানে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাসিরাবাদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ দপ্তর সংস্কার ও আধুনিকায়ন, নগর ও উপজেলার ১৪টি বিদ্যালয়ের ভবন, মিরসরাই ও লোহাগাড়ায় ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, হর্টিকালচার সেন্টারের প্রশিক্ষণ ও অফিস ভবন ইত্যাদি। এসব নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা টাকা।’
১০ ডিসেম্বর বিএনপির খুব প্রিয় তারিখ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর নাকি তারা ঢাকা অচল করে দেবে। ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে এ দেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মিশন শুরু হয়েছিল। ১০ ডিসেম্বর সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের হত্যা করা হয়। অর্থাৎ এই দিনে বুদ্ধিজীবী হত্যার মিশন শুরু হয়। এ কারণেই এই তারিখ বিএনপির এত প্রিয়।’
ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে তিনি হেলিকপ্টারে করে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে নামেন। সেখান থেকে সিআরবি হয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আসেন। মাঠে এসেই ৩০টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং চার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, চট্টগ্রামেও তারা বারবার গ্রেনেড মেরেছে, গুলি চালিয়েছে। লালদীঘির ময়দানে সমাবেশ করতে গেছি সেখানে তারা গুলি চালিয়েছে। সেদিন যে পুলিশ অফিসার গুলি চালিয়েছিল খালেদা জিয়া তাকে প্রশোমন দিয়েছিল। শুধু এখানে না, সারা বাংলাদেশে ৬৩টি জেলায়, ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা করেছে এই বিএনপি। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস তারা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি। তারা মানুষের শান্তি চায় না। ক্ষমতায় থেকে কী করেছে, দু’হাতে লুটপাত। জনগণের অর্থ পাচার করেছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘মানুষ পুড়িয়ে মারার হিসাব একদিন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দিতে হবে। বিএনপি দেশের ক্ষতি করে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয়। এই চট্টগ্রামে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি।’
জিয়াউর রহমান যখন মারা যান, ৪০ দিন পর্যন্ত আমরা শুনেছি, জিয়া কিছু তার পরিবারের জন্য রেখে যায় নি। একটা ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া নাকি কিছুই রেখে যায়নি। আমার প্রশ্ন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসতে না আসতেই হাওয়া ভবন খুলে তার ছেলে যে চাঁদাবাজি, অর্থ সংগ্রহ এবং অর্থ পাচার করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে, ওগুলো কোথায় থেকে এলো? ভাঙ্গা স্যুটকেস তো আর জাদুর বাক্স হয়ে যায় নি, প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। আওয়ামী লীগ এ দেশের স্বাধীনতা এনেছে। এ চট্টগ্রামে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমরা করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন করেছি। ঢাকা থেকে কক্সাবাজার আমরা রাস্তা করছি, তাছাড়া রেললাইন করছি।
বেলা ১২টা থেকেই চট্টগ্রামের স্থানীয় এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় জনসভার আনুষ্ঠানিকতা। বক্তব্যে নেতারা চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া নানা প্রকল্পের বিবরণ তুলে ধরছেন। আগামীতেও প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত নৌকার প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান।
এদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুপুরের জনসভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা পলোগ্রাউন্ডমুখী জনস্রোতে যুক্ত হয়েছেন। ভোরের আলো ফুটতেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রং বেরংয়ের টি শার্ট ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে জনসভাস্থলের আশাপাশে এসে অবস্থান নিতে থাকেন। এরপর সিআরবি, পুরোনো রেলস্টেশন, টাইগারপাস দিয়ে বানের স্রোতের মত নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। এসময় স্লোগানে-স্লোগানে মুখর জনসভাস্থল ও চট্টগ্রামের রাজপথ।