মো.আলী আশরাফ মোল্লা: আর মাত্র ৩/৪ দিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেউ স্থান ত্যাগ করবেন না। যে যেখানে আছেন দয়া করে সেখানেই থাকেন। সেখানেই ঈদ উদযাপন করুন। প্রতিবছর তো প্রিয় জনদের সাথেই ঈদ করেন। এবার যেহেতু বাংলাদেশ সহ পুরো বিশ্বজুড়ে মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের ভয়ে তটস্থ,জনজীবন বিপর্যস্থ,আমরা যেখানে এই ভয়ংকর ভাইরাসের কাছে অসহায়! সেহেতু সবাই স্ব স্ব অবস্থানে থেকেই ঈদ উদযাপন করুন, কেউ তার নিজের স্থান ত্যাগ করবেন না।
প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে ঢাকা শহর প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। সবাই গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে যায়। তাছাড়া ও চট্টগ্রাম, রাজশাহী,সিলেট সহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর গুলো থেকে ও মানুষ জন তাদের আপন জনদের সাথে তথা বাবা মার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য গ্রামে ছুটে যান। কিন্তু এবার আর সেটি হচ্ছে না। কারণ তো সবাই জানেন। বিশ্বব্যাপী কোভিড ১৯ আক্রান্তে মানুষ ঘরবন্দী। আর জনসমাগম এড়িয়ে চলাই হচ্ছে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার মূল মন্ত্র। আর এই জন্যই আপনারা যে যেখানে বর্তমানে অবস্থান করছেন, দয়া করে সেখানেই এবারের ঈদ টি পালন করেন। আপনি আমি বেচেঁ থাকলে ভবিষ্যতে পরিবারের সাথে আরো অনেক ঈদ উদযাপন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
এখন এই করোনাযুগে আপনি কষ্ট করে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে যেকোন ভাবে পরিবারের কাছে চলে যেতেই পারেন। কিন্তু একবার ভেবে দেখেন তো! আপনি যাচ্ছেন পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ করার জন্য কিন্তু আপনি যে করোনা ভাইরাস বহন করে নিয়ে যান নি তার তো কোন নিশ্চয়তা নেই। আপনার জন্য আপনার পরিবার,ছেলেমেয়ে, বাবা-মা এবং পাড়া প্রতিবেশীরা আতংকের আর উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে পড়ুক, নিশ্চয়ই আপনি সেটি চান নি। তাহলে এবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঈদ উদযাপন করার কথাটি এখনই ভুলে যান।
যারা ঢাকায় আছেন তারা ঢাকায় থাকুন। ঢাকার বাইরে বের হবেন না। আবার যারা গ্রাম বা অন্য কোন স্থানে আছেন তারা ও ঢাকায় এখন প্রবেশ করবেন না। আর আমাদের কে সরকারিভাবে সেই নির্দেশনায় প্রদান করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের থেকে দূরে থাকুন। বিভিন্ন চেকপোস্ট আপনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশ কে বিব্রত করবেন না। আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়েই আজ ৩ হাজারের বেশি পুলিশ এই প্রাণঘাতী কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত। অতএব, আপনি নিজে থেকে সর্তক হোন, বাইরে বের হবেন না। অতি প্রয়োজন ছাড়া বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করবেন না।
যে যেখানেই থাকেন ঈদের আনন্দ ফূর্তি করার জন্য দলবল বেধে বাইরে ঘুরতে বের হবেন না। আপনাদের মনে রাখতে হবে, এবারের পরিবেশটি খুবই ভয়ংকর। প্রতি দিন বিশ্বে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর সংবাদ শুনতে পাচ্ছি। দয়া করে, এবারের ঈদে আনন্দ না করলেও আমাদের চলবে। যদি আনন্দ করতে গিয়ে আমিই চলে যায় অথবা আমার, আপনার পরিবারের কেউ চলে যায় তাহলে সেটা কতোটা বেদনাদায়ক,মর্মস্পর্শী, অপূরণীয় ক্ষতি হবে ভেবে দেখেছেন! নিজের স্বার্থে, পরিবারের স্বার্থে,দেশের মানুষের কথা বিবেচনা করে এবার ঈদে আমরা বাইরে বের হবো না, দলবেঁধে ঘুরতে যাবো না। বেচেঁ থাকলে না হয় আমরা অন্য ঈদে ডাবল আনন্দ করবো। আসুন আমরা সকলেই সরকার নির্দেশিত বিষয় গুলো নিজের প্রয়োজনেই মেনে চলি, পুলিশ, প্রশাসন তথা করোনা মোকাবিলায় অগ্রসৈনিকদের সর্বাত্নক সহযোগীতা করি।
দয়া করে, কেউ কোন প্রকার লুকোচুরি করে,পুলিশের চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে কোন প্রকার বিপদ ডেকে আনবেন না। বেচেঁ থাকার চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। আসুন নিজে বাচিঁ অন্য কেও বাচাঁতে সহযোগীতা করি। করোনা মুক্ত জীবন গড়ি। একমাত্র সচেতনতায় পারে ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে। আল্লাহকে সদা সর্বদায় স্মরণ করুন আর তার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করুন।
লেখকঃ কলামিষ্ট,আবৃত্তিশিল্পী এবং সংগঠক