Thursday, October 29

সু চিকে দেওয়া পদক প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মিউজিয়াম

0

রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর আক্রমণ বন্ধ, এমনকি তাদের ওপর জাতিগত নিধনযঞ্জের কথা স্বীকার না করায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে দেওয়া পদক প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের নৃশংসতার শিকারদের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটনের এই জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বুধবার এক চিঠিতে বলেছে, “এটা খুবই অনুতাপের যে, আমরা এখন এই পদক প্রত্যাহার করছি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের জন্য ছিল কঠিন।”

মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দেড় দশক গৃহবন্দিত্বে কাটানো সু চিকে ২০১২ সালে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে সম্মানজনক এলি উইসেল পদক দেওয়া হয়েছিল। নোবেলজয়ী উইসেল ছিলেন এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। নাৎসিদের নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া উইসেলকেই প্রথম এই পদক দেওয়া হয়েছিল।

গত ২৫ অগাস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গার পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর পদ নিয়ে কার্যত সরকারপ্রধান অং সান সু চি।

রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের কথা প্রকাশ হওয়ার পর শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চির পদক প্রত্যাহার হয়েছে বেশ কয়েকটি। তাকে দেওয়া ‘ফ্রিডম অব দি সিটি অব অক্সফোর্ড অ্যাওয়ার্ড, ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব ডাবলিন’ প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাজ্যের এই দুই শহর কর্তৃপক্ষ। এক যুগ আগে সু চিকে দেওয়া সম্মাননা স্থগিত করে যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন- ইউনিসন।

রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ না হলে সু চিকে বিচারের মুখোমুখি করার হুমকি দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী তিন নারী তাওয়াক্কুল কারমান, শিরিন এবাদি ও মরিয়েড মুগুয়ার।

গত মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে তারা অভিযোগ করেন, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের নির্মূল করতে পরিকল্পিত গণহত্যা চালানো হচ্ছে। এর দায় মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে।

হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম পদক প্রত্যাহারের বিষয়টি জানিয়ে সু চির ‍উদ্দেশে লেখা চিঠিটি নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণে মদদ দিয়েছে এবং যেসব জায়গায় নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে সেখানে সাংবাদিকদের যেতে দেয়নি।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের বিষয়ে মিয়ানমারের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.