২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে খালেদার হাজিরা চেয়ে দুদকের আবেদন

0

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

পরে দুদকের আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, আগামী ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ওই দিন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার জন্য আবেদন করেছেন।

এদিকে, এ মামলার খালেদা জিয়ার কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘এর আগে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য আদালতে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য রাখেন।’

এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচজনের ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন একই আদালত। এ মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন।

এ মামলায় দণ্ডিত অপর আসামিরা হলেন সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সলিমুল হক কামাল,ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

অপরদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ।

ওই মামলার অন্য আসামিরা হলেন—খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.