রাজীব আশরাফ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও পুলিশ কর্মকর্তা : করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত হচ্ছে বিশ্বের অনেকগুলি রাষ্ট্র। চীন,ইতালি, ফ্রান্স,স্পেন সহ ইউরোপের অনেক ধনী রাষ্ট্র। সৌদী আরব, মালয়েশিয়া সহ মধ্য প্রাচ্যে এর বিস্তার ঘটেছে। দক্ষিন এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশেও এ সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। এ সংক্রমণ ক্রমাগতভাবেই বৃদ্ধি পাচ্ছে পুরো পৃথিবীজুড়ে। এর থেকে ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশ ও। ইতিমধ্যেই এটি মহামারি হিসেবে দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।
আর এর জন্য ই সরকার সারা বাংলাদেশে সব বিনোদন কেন্দ্র গুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে। বান্দরবান, কক্সবাজার,পটুয়াখালী সহ সব ধরনের পযর্টক এলাকায় সাময়িক নিষেধাক্ষা জারি করেছে। এই মহামারির সময়ে কোথাও, কোন এলাকায় কোন পযর্টক আসতে পারবে না। ইতোমধ্যে বান্দরবান এ সব গুলো আবাসিক হোটেলে অগ্রিম বুকিং সহ সব ধরনের বুকিং বাতিল করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এ এলে সুস্থ ব্যক্তিও সংক্রামিত হবে। সব ধরনের লোক সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। বাংলাদেশে ও এরই মধ্যে আজ পযর্ন্ত(২০.০৩.২০২০)এই রোগে কোভিড -19 রোগে আক্রান্তের সংখ্যা২০ । আর এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ০১। এই করোনা ভাইরাসের থেকে রক্ষার জন্য আমাদেরকে কিছু করণীয় বর্জনীয় কাজ অবশ্যই মেনে চলতে হবে। যেহেতু এটি সোয়াচে রোগ। হাচিঁ,কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সেইক্ষেত্রে আমাদেরকে হাচিঁ,কাশি দেওয়ার সময় আমরা রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করবো। কারো সামনে হাচিঁ,কাশি দিবো না। হাচিঁ,কাশি আসলে আমরা কোন কিছু দিয়ে মুখে চেপে ধরে তারপর দিবো যাতে করে অন্যের কোন ক্ষতি না হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এ ছড়াতে পারে। আমরা বাইরে বের হলে মুখে মাস্ক ব্যবহার করবো। বাইরে বের হলে এবং বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করার পূর্বেই ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত মুখ ধুতে হবে। হাত না ধুয়ে কোন ভাবেই চোখে,মুখে ও নাক স্পর্শ করবেন না। গন পরিবহন এই মুহূর্তে এড়িয়ে চলুন। নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ডিম, মাংস সবজি খুব ভালোভাবে ধুয়ে এবং ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করে খান। প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন এবং একটু পর পর পান করুন। ময়লা কাপড় পরবেন না। এই সময়ে কোন ভাবেই ভ্রমণে বের হবেন না। জন সমাবেশ এড়িয়ে চলুন। কোন ব্যক্তি আক্রান্ত মনে হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান। বিদেশ থেকে আগত কোন ব্যক্তি বাড়ির বাইরে , হাট বাজারে ঘুরে বেড়াবেন না। বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারান্টাইন এ থাকতে হবে ১৪ দিন। কোয়ারান্টাইন মানে সঙ্গনিরোধ। একজনের কাছ থেকে আরেক জনের আলাদা থাকা, পৃথক থাকা। যাতে সুস্থ ব্যক্তিকে কোনভাবেই সংক্রমিত করতে না পারে। মনে রাখবেন, আপনার জন্য অনেকের ক্ষতি হতে পারে। অতএব আপনি বিদেশ থেকে আগত হলে ডাক্তারের নিদের্শনা মেনে চলুন। জীব জন্তু অথবা গৃহপালিত পশুকে খালি হাতে স্পর্শ করবেন না। ফলের রস এবংভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য লেবু,গাজর,টমেটু, পালং শাক ইত্যাদি খাবারের তালিকায় প্রচুর পরিমানে রাখবেন।
সর্বোপরি মহান প্রভুর নিকট আশ্রয় পার্থনা করুন। তিনিই সমগ্র জগতের মালিক। আল্লাহর কাছে বেশি বশি করে তওবা করতে হবে। বেশী বেশী করে দোয়া দরুদ, জিকির, নফল নামাজ ও রোজা আদায় করুন, দান সদকা ও করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত ও রক্ষা করুন, আমিন।