জামাত ও জুমার উপ‌স্থি‌তি‌কে সী‌মিত রাখার আদেশ শরয়ী দৃ‌ষ্টি‌কোণ থে‌কে স‌ঠিক ও যথার্থ: আহমদ শফী

0

সরওয়ার কামাল জামান : ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণাল‌য় কর্তৃক জা‌রিকৃত জামাত ও জুমার উপ‌স্থি‌তি‌কে সী‌মিত রাখার আদেশ শরয়ী দৃ‌ষ্টি‌তে স‌ঠিক ও যথার্থ। তাই সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দ‌েশনাকে মূল্যায়ন করা ও তা উত্তমরূ‌পে গ্রহণ করা মানবতার কল্যা‌ণে আমাদের অপ‌রিহার্য কর্তব্য ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন দারুল উলূম হাটহাজারী মহাপ‌রিচালক, আমীরে হেফাজত আল্লামা আহমদ শফী।

আজ ৬ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যা ৭ট‌ায় গণমাধ্য‌মে পাঠা‌নো এক বিবৃ‌তি‌তে তি‌নি এসব কথা জানান।

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে ইরাশাদ করেন, وَلاتَقْتُلُواأَنفُسَكُمْإِنَّاللَّهَكَانَبِكُمْرَحِيمًا
“তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চিত জেনো, আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।” সূরা নিসা-২৯
আরও ইরশাদ হয়েছে, ولاتُلْقُوابأيْدِيكُمإلىالتهْلُكة
“ তোমরা নিজ হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।” সূরা বাকারা-১৯৫
আরও ইরশাদ করেন, يَاأَيُّهَاالَّذِينَآَمَنُواخُذُواحِذْرَكُمْ

হে মুমিনগণ, তোমরা (শত্রুর সাথে লড়াইকালে) আত্মরক্ষার উপকরণ নিজেদের সাথে রাখো।” সূরা নিসা-৭১
ইসলাম নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ হওয়াকে সমর্থন করে না; বরং নিষেধ করে। সর্তকতা ও সচেতনতা ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যে কোনো আসু ক্ষতি থেকে সতর্ক থাকা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশও বর্তমানে বেশ ঝুকিপূর্ণ। বর্তমান চিত্র ভয়াবহরূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই এ ভাইরাস আমাদের দেশে মহামারির আকার ধারণ করছে। খুব দ্রুত গতিতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করছেন। এ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে দুআ এবং শরীয়তের আলোকে সতর্কতা অবলম্বন ছাড়া বিকল্প নেই।
সতর্কতার জন্য সরকার উলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে, যে কোনো ধরনের বড় জমায়েতকে নিষেধ করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আদেশ দিয়েছে। জামাত ও জুমার উপস্থিতিকে সীমিত রাখার আদেশ জারি করেছে। শরয়ী দৃষ্টিতে এসকল সতর্কতামূলক নির্দেশনা সঠিক ও যথার্থ। সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাকে মূল্যায়ন করা এবং তা উত্তমরূপে গ্রহণ ও পালন করা মানবতার কল্যাণে আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য।

তবে সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণই আমাদের একমাত্র কাজ নয়। বরং আমাদের কৃতপাপ ও সমূহ অন্যায় থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ভবিষ্যতে সকল অপরাধ থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করে খালিছ দিলে তওবা করতে হবে। ঘরে বসে দুআ,ইস্তেগফার ও নফল ইবাদাতে মাশগুল থাকতে হবে। যেন আল্লাহ তাআলা অনতিবিলম্বে আমাদের থেকে এমহামারি তুলে নেন। নিরাপদে জীবন যাপন করার তওফীক দান করেন। আমাদেরকে ও সারা বিশ্বকে এ মহামারি থেকে প্ররিত্রাণ দেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.