ব্রাজিলে গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু এবং আক্রান্তের নতুন রেকর্ড

0

প্রাণঘাতি করোনা ইউরোপ ও আমেরিকার সাথে তাণ্ডব চালাতে শুরু করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেও। 

ব্রাজিলের দেয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বলছে, গত ঘণ্টায় দেশটিতে ৮০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ। এতে করে ব্রাজিলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজারে পৌঁছেছে।

প্রাণহানির সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঘটছে সর্বোচ্চ আক্রান্তের ঘটনা। গত একদিনে ভাইরাসটি হানা দিয়েছে ১০ হাজার ১৯৯ জন মানুষের দেহে। এ নিয়ে সেখানে করোনা বয়ে বেড়াচ্ছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯২ জন।

সুস্থ হওয়ার হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি। তবে, প্রথম দিকের তুলনায় বর্তমানে কিছুটা কমেছে। এখন পর্যন্ত সেখানে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫৯ হাজারেরও বেশি মানুষ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন ৮ হাজার ৩১৮ জন।

এর মধ্যে মানাউস শহরে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা। প্রতিদিনই সেখানে শতশত মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। ফলে, শেষকৃত্য করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। ইতিমধ্যেই সেখানে কফিন সংকট দেখা দিয়েছে। মরদেহগুলোর পাহাড় জমেছে মর্গগুলোতে।

অ্যামাজন বনে ঘেরা শহরটিতে অন্তত ২০ লাখ মানুষের বসবাস। প্রত্যন্ত এ এলাকার সঙ্গে দেশের বাকি এলাকাগুলোর সরাসরি সড়ক যোগাযোগও নেই। একারণে সেখানে সংকট কাটাতে আকাশপথে দ্রুত কফিন পাঠাতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ন্যাশনাল ফিউনারেল হোম অ্যাসোসিয়েশন।

এর আগে বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনা যখন ইউরোপ, আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও প্রথমদিকে তেমনটা গুরুত্ব দেয়নি ব্রাজিল সরকার। ফলে, দ্রুত ভাইরাসটি বিস্তার লাভ করে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার হটস্পট হতে চলেছে ব্রাজিল। তারপরও প্রেসিডেন্টের অসতর্কতায় হুমকির মুখে দেশটির নাগরিকরা। এমন নাজুক অবস্থায়ও দেশে ফের ফুটবল মৌসুম শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গত ১৫ মার্চ ব্রাজিলের প্রায় সব ফুটবল টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়। চলতি মাসেই ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু, দেশটিতে প্রতিনিয়ত আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে করোনাক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সামনে আরও ভয়াবহ অপেক্ষা করছে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞারা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.