নাজিরহাট বড় মাদরাসার মুহতামিম হলেন আল্লামা মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী

0

সরওয়ার কামাল জামান: নাজিরহাট বড় মাদরাসার শুরা কমিটির সম্মানিত সদস্যদের পরামর্শ এবং সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুন্দর একটি সমাধানের পথ উন্মুক্ত হলো। শুরা কমিটির সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মুহতামিম নির্বাচিত হয়েছেন আল্লামা মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী। তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর নায়েবে মুহতামিম ছিলেন। পূর্ববর্তী মুহতামিম আল্লামা ইদ্রীস সাহেব গত ২৮ মে ইন্তেকালের পরবর্তী ছয় মাস তিনি ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম ছিলেন। আজ ২৮ অক্টোবর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪৪২ হিজরী মোতাবেক রোজ বুধবার দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত শুরা বৈঠকের মাধ্যমে তিনি মুহতামিম নির্বাচিত হয়েছেন।

শুরাবিহিন মুহতামিম মাওলানা সলিমুল্লাহ সাহেব শুরার কর্তৃক নির্ধারিত মুহতামিম বলে দাবী করলেও শুরার সদস্যগণ এ দাবী অস্বীকার করেন এবং সম্মিলিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আল্লামা মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমীকে নাজিরহাট বড় মাদরাসার মুহতামিম নির্বাচন করেছেন। গত ২৪ অক্টোবর সরকার এবং ফটিকছড়ি থানার এমপি আলহাজ্ব নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি ২৮ তারিখ (আজকের দিনে) শুরা গঠন করার ঘোষণা দিলে মাওলানা সলিমুল্লাহ সাহেবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এতে সকল ছাত্র-শিক্ষকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করলে সবাই মাঠে উপস্থিত হন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে এলাকাবাসী কয়েকজনের বক্তব্যের পর ছাত্রদের পক্ষ থেকে ইয়াসিন নামের দাওরার এক ছেলে বক্তব্য দিতে গিয়ে আল্লামা মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমীকে নিয়ে কটুবাক্য উচ্চারণ করলে ছাত্ররা শুরা চাই শুরা চাই স্লোগানে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে সংবাদ সম্মেলন বাঞ্ছাল হয়ে যায়।

এক পর্যায়ে উভয় পক্ষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রশাসন এলার্ট থাকায় বড় ধরণের কোন সমস্যা হয়নি। পরেরদিন মাননীয় এমপি মহোদয় শুরা কমিটি এবং এলাকাবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত বহাল থাকার ঘোষণা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল ১০টা থেকে শুরা কমিটির সম্মিলিত সিদ্ধান্ত দুপুর ২ টায় ঘোষণা করা হয়।

কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আল্লামা মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী মুহতামিম, মাওলানা ইয়াহিয়া সাহেব নায়েব মুহতামিম, মাওলানা ইসমাঈল সাহেব মুঈনে মুহতামিম, মাওলানা হাবীবুল্লাহ নদভী শিক্ষা পরিচালক, মুফতি রবিউল হাসান সহকারী শিক্ষা পরিচালক, মাওলানা হাফেজ জাফর নাজেমে দারুল একামাহ এবং মাওলানা শহিদুল্লাহ সাহেব সহকারী নাজেমে দারুল একামাহ নিযুক্ত হয়েছেন।

মজলিসে ইলমি হিসেবে যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন, আল্লামা মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা হাফেজ জাফর, মাওলানা হাবীবুল্লাহ নদভী, মাওলানা আসআদ ও মুফতি আব্দুল হাকিম এবং মাওলানা শহিদুল্লাহ সাহেব। যেসব শিক্ষকদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো তারা হলেন, মাওলানা সলিমুল্লাহ সাহেব, মুফতি হাশেম, মাওলানা সালাহ্উদ্দিন, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা ইদ্রীস, মাওলানা মাহফুজ প্রমূখ।

আজকের শুরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাবুনগর মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, পটিয়া মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মুফতি আব্দুল হালিম বুখারী, তালিমুদ্দিন মাদসার মুহতামিম আল্লামা কাসেম, মেখল মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা নোমান ফয়জী, খিলগাঁও মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী, ফতেহপুর মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা মাহমুদুল হাসান, অলিখা মসজিদের সাবেক খতিব মাওলানা কারী আনোয়ার এবং জিরি মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা খোবাইব সাহেব প্রমূখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি, ইউএনও, ওসিসহ প্রসাশনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

নবনির্বাচিত মুহতামিম আল্লামা মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী বলেন, আমি প্রথম থেকেই শুরা দাবী করে আসছি। আমি কখনো মুহতামিম হতে চাইনি। শুরা কমিটির সদস্যরা যাকে মুহতামিম হিসেবে নির্বাচিত করবেন আমি তাকে মুহতামিম হিসেবে মেনে নিবো। এখন আমার কাজ হচ্ছে, শিক্ষকদের নিয়ে সুষ্ঠুভাবে মাদরাসা পরিচালনা করা এবং নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া।
পরিশেষে তিনি মাননীয় এমপি আলহাজ্ব নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, শুরা কমিটির সদস্যবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, এলাকাবাসী এবং ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.