বান্দরবান প্রতিনিধিঃ রাজধানী ঢাকায় নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ‘আদিবাসী’ শব্দসংবলিত গ্রাফিতি বাতিলের প্রতিবাদে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। উগ্র মৌলবাদী সেটেলার ছাত্র সংগঠন “স্টুডেন্ট’স ফর সভারেন্টি” দ্বারা আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে বান্দরবানে থানচিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র সমাজ।
বৃহস্পতিবার(১৬ জানুয়ারী) বেলা ২ টায় উপজেলা মুক্তমঞ্চে জড়ো হতে থাকে উপজেলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পাহাড়ি প্রতিনিধি শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে ‘থানচি সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র সমাজ’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করে তিন রাস্তার মোড় সামনে অবস্থান নেন। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে।
মারমা, চাকমা, ম্রো, ত্রিপুরা ও খুমী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বক্তারা বলেন, লড়াই করে বাঁচতে হবে আমাদের। পাহাড়ে নিজের মাতৃভূমি রক্ষার্থে প্রতিবাদ করতে হবে। পাহাড়ে হাজার বছর ধরে সব সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে, আদিবাসীদের অধিকার আদায়ে কথা বললে আমাদেরকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া হয়।
তারা বলেন, আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই যারা আদিবাসি শিক্ষার্থীদের র’ক্তা’ক্ত করেছে। মনে রাখতে হবে রক্ত ঝরালে কিন্তু ৩৬ জুলাই হয়। ঢাকার মতিঝিলে পাঠ্যবই থেকে ”আদিবাসি” লেখা গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তারা উগ্রবাদীদের আক্রমণের শিকার।
যারা এসব ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারে প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা আরও বলেন, ছাত্রদের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও বাংলাদেমের কিছু উগ্র মৌলবাদী বাহিনী কর্তৃক শান্তিপ্রিয় পাহাড়ি ও বাঙালি নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত। আমাদের আর ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই।
সমাবেশে ক্যহাইসিং মারমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, মংমে মারমা, সিংওয়াংই মং মারমা, অংসিং মারমা, জয মারমা, আসাবান ত্রিপুরা, কাইয়া ম্রো ও উক্যবু মারমাসহ অনেকে।