বিজয় কুমার,সাঘাটা(গাইবান্ধা)থেকেঃ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিশ্রুতি দেবার ১৬ বছর পর সাঘাটা- গাইবান্ধা ভায়া ফুলছড়ি সড়ক প্রশস্ত করনের কাজ শুরু। জেলার সাথে একমাত্র সংযোগ রক্ষাকারী ২৮.৭৫ কিঃ মিঃ দীর্ঘ সড়কটি প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী বছরের জুন/১৮ মাসে নির্মান কাজ সু-সম্পর্ন হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ হলে উপজেলা দু’টির জনসাধারনের ভোগান্তিহীন ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাথে স্বল্প সময়ে যানবাহনে চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে বলে জানা গেছে।
সাঘাটা-ফুলছড়ি উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত দু’টি উপজেলা। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে এ অঞ্চলের সাধারন জনগন সর্বশান্ত ও অসহায়। যেকোন কাজে তাদের শহর মুখী না হয়ে উপায় নাই। চলাচলের ক্ষেত্রে সাঘাটা-গাইবান্ধা সড়কটিই একমাত্র ভরসা। খানাখন্দে ভরা অপ্রশস্ত সড়কে জীবনের ঝুকি নিয়ে চলতে প্রতিনিয়ত ঘটে নানা দুর্ঘটনা। এর ফলে অকালে ঝরে যায় অগনিত প্রান। এমনি অভিযোগ এলাকাবাসির।
তারা আরও বলেন,সড়ক প্রশস্ত করন ও চলাচলের উপযোগী করার প্রস্তাবটি ক্রমান্বয়ে এ অঞ্চলের জনসাধারনের প্রানের দাবিতে পরিনত হয়। ভুক্তভোগী মহলের ভাষ্যানুযায়ী জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডঃ ফজলেরাব্বী মিয়া ( বর্তমান ডিপুটি স্পিকার, জাতীয় সংসদ) সড়কটির নাজুক পরিস্থিতি সমন্ধে সরেজমিনে অবগত থাকলেও নাম মাত্র রিপিয়ারিং ছাড়া সমস্যা সমাধানে বৃহৎ কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
২০০১ সালে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কাজী আজাহার অালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জাতীয় নির্বাচনি জনসভায় জননেত্রী শেখ হাসিনা, এ্যাডঃ ফজলেরাব্বী মিয়ার পক্ষে ভোট চাওয়ার প্রাককালে চলাচলের অযোগ্য রাস্তাটিকে “গাইবান্ধা থেকে সারিয়াকান্দি” পর্যন্ত মিনি বিশ্বরোডে উন্নিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। অজ্ঞাত কারনে একযুগের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও “মরন ফাঁদ” নামে খ্যাত সড়কটির মাঝে মাঝে রিপিয়ারিং ছাড়া বৃহৎ কোন কাজ করা হয়নি।
অপ্রশস্ত খানাখন্দে ভরা সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতি বছর ঘটে থাকে অপ্রত্যাশিত নানা দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় একটি হাত হারিয়ে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মরহুম জাহেদুল বারী চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী মোছাঃ অাছমা বেগম রুমি অাক্ষেপ করে এ প্রতিনিধিকে বলেন, কোন এলাকার উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হচ্ছে, সে এলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন করা।
যুগের পর যুগ কেটে গেলেও সাঘাটা-ফুলছড়ির অবহেলিত রাস্তা-ঘাটের কোন উন্নয়ন হয়নি। প্রয়োজনের তাগিদে অপ্রশস্ত, ভাঙ্গা-চুড়া সড়কে যানবাহন চালাতে গিয়ে ঘটে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা। এতে করে অকালে ঝরে পরে তরতাজা প্রান। অাবার অনেকে চিরতরে পঙ্গুত্বকে বরণ করতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ দিন পরে হলেও এ সড়কটি মিনি বিশ্বরোডে উন্নিত হচ্ছে। যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে বড় ধরনের কোন ঘাপলা না হলে সাঘাটা-ফুলছড়িবাসির প্রানের দাবিটি পুরন হবে।
সরু, কার্পেটিং ওঠা রাস্তাটি সাইকেল,রিক্সা-ভ্যান,অটো বা সিএনজি চলাচলের উপযোগি নয়। তার উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলার তো প্রশ্নই ওঠে না।দু’টি গাড়ি ক্রসে সৃষ্টি হয়া যানজটে যাত্রীসাধারনকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সাইড নিতে বা দিতে গিয়ে গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা নতুন বিষয় নয়। ন্যাশনাল নিউজের নিকট এমনি অভিযোগ করেন সিএনজি চালক রুবেল।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আসাদুজ্জামান ন্যাশনাল নিউজকে বলেন, সাঘাটা-গাইবান্ধা ভায়া ফুলছড়ি ২৮.৭৫ কিঃ মিঃ দীর্ঘ সড়কের উন্নয়ন কাজে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। আইসিসি লিমিটেড প্যারাডাইস ট্রেডার্স (জেভি) ও এমবি মতলুবর রহমান ( জেভি) নামে দু’টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। দু’টি প্যাকেজে আগামী জুন/১৮ মাসে কাজটি শেষ হবে ।