শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকে:: নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম -তুমব্রু সড়কের কয়েক লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের নাম ভাংগিয়ে গাছ গুলো কেটে নেয় স্থানীয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত চক্র। ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় “মোরা “য় আক্রান্ত ঘুমধুম তুমব্রু সড়কের দুইপাশের সারি -সারি বিভিন্ন প্রজাতির (আকাশমনি, শিশু সহ) কিছু গাছ ভেংগে পড়ে। ভেংগে পড়া গাছ গুলো রাস্তা পরিস্কারের অজুহাতে আরো কয়েকগুণ গাছ কেটে নিয়ে যায় ঘুমধুম – তুমব্রু এলাকার দুর্বৃত্তরা। তৎমধ্যে তুমব্রু এলাকার জনৈক মামুন, রুহুল আমিন, নুর আহমদ, কালু মাস্টারের ছেলে ভাইগ্যা, জনৈক খিজারীঘোনা এলাকার নুরুল ইসলাম লেড়ু ও মকসুদুল হক সহ কয়েকজনের নাম জানা যায়।। গাছ কর্তন কালে স্থানীয়রা তাদেরকে জিজ্ঞেস করায় বলেন, এগুলো ইউনিয়ন পরিষদের নামে কাটা হচ্ছে।
আরো জানা যায়, ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা চেয়ারম্যানের কোন সম্পৃক্ততা নেই। প্রকৃত পক্ষে পরিষদের নামে গাছ গুলো কাঠাচোর চক্র হাতিয়ে নিয়েছে। গাছ কেটে নেওয়া নুরুল ইসলাম লেড়ু, ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, সে স্কুলের নাম ভাংগিয়ে অন্তত ২০ /২৫ টি বড় -বড় আকাশমনি গাছ কেটে নিয়ে যায়। যার মুল্য কমপক্ষে লাখ টাকা।স্কুলের নামে গাছ কাটার বিষয়ে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাইরুল বশর কিছুই জানেন না বলে জানান। কেউ স্কুলের নামে গাছ কেটে আত্মসাৎ করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় এবং দায়ভার বহন করবেনা। স্থানীয়দের অনেকে অভিযোগ করে জানান, ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এই ফাঁকে কাঠচোর চক্র পরিষদের নামে শত -শত গাছ কেটে নিয়ে যায়। ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, রাস্তার গাছ কাটা নিয়ে আমি কিছুই জানিনা। শুনেছি স্থানীয় কিছু লোক ভেংগে পড়া গাছের অজুহাতে গাছ গুলো নিয়ে যায়। পরিষদের এতে কেউ জড়িত নয়। যারা গাছ কেটে নিয়ে গেছে, তাদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে এলাকাবাসী অবহিত করেছে বলে শুনেছি।তবে গত বৃহস্পতিবার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল ঘুমধুমে “মোরা “আক্রান্ত এলাকায় পরিদর্শনে আসলে গাছ ভেংগে পড়ার দৃশ্য অবলোকন করেন।তবে পরিষদ ও স্কুলের নামে লাখ -লাখ টাকার সড়কের গাছ গিলে খাওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে সুশীল সমাজ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খতিয়ে দেখা উচিৎ বলে মনে করছেন তারা।