সরওয়ার কামাল: বাংলাদেশের প্রাচীনতম দ্বীনি বিদ্যাপীঠ আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম হাটাজারীর বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দি সম্মেলনে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে প্রধান অথিতির বক্তব্যে ভারত উপমহাদেশের আজাদী আন্দোলনের মহানায়ক শায়খুল ইসলাম আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর সুযোগ্য সাহেবযাদা আল্লামা সৈয়দ আসজাদ মাদানী বলেন, আমরা নবীজির পথ ছেড়ে দিয়েছি; তাই এত লাঞ্চিত। নবীজি জীবনে একটি মিথ্যেও বলেননি অথচ আমরা কতশত মিথ্যে বলেছি তার কোন হিসেব নেই। নবীজি জীবনে কারো মনে কষ্ট দেননি, অথচ আমরা পিতা-মাতা, স্ত্রী পরিবার-পরিজনের যে কাউকে কষ্ট দিতে দ্বিধাবোধ করিনা। আমরা সকলে পরকালে নবীজির সান্নিধ্য পেতে আগ্রহী কিন্ত নবীজির পথ থেকে আমরা যোজন যোজন পিছিয়ে পড়েছি।
তিনি আরো বলেন, নবীজি বলেছেন যার চরিত্র যত বেশী সুন্দর সে পরকালে আমার তত বেশী নিকটবর্তী হবে। তোমরা জি¦হবা সংযত কর এবং লজ্জাস্থান হেফাজত কর। আমি তোমাদের জন্যে জান্নাতের দায়িত্ব নিচ্ছি।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, এদেশে নাস্তিক্যবাদী কোন শিক্ষাব্যবস্থা চলবেনা। ইসলামী মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষানীতি অবশ্যই চালু করতে হবে। আসাদ নূরদের মত নাস্তিকদের ঠাঁই বাংলার জমিনে হবেনা। নাস্তিকদের কারসাজিতে প্রণীত শিক্ষানীতি অচিরেই বাতিল করতে হবে। তিনি আরো বলেন, পবিত্র কেবলা বাইতুল মোকাদ্দাস আমাদেরই। উন্মাদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা মুসলিম উম্মাহ কখনো মেনে নেবেনা।
সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী মোবাইলিজম থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দুরত্ব বজায় রাখতে বিশেষ ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মোবাইলের কারণে জাতি আজ ধ্বংষের দ্বারপ্রান্তে উপনীত। মোবাইলের মাধ্যমে আমাদের আগামী প্রজন্মকে পঙ্গু করে দেয়ার পাচ্যত্ববাদী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবশ্যই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা তফাজ্জল হক ( সিলেটি), আল্লামা সালাহ উদ্দিন নানুপুুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওঃ নোমান ফয়জি, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওঃ লুকমান, মাওঃ সাজেদুর রহমান বি-বাড়ীয়া, মুফতি কিফায়াত উল্লাহ, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, মাওঃ সলিমুল্লাহ, মাওঃ আজিজুল হক আল মাদানী, মাওঃ ফুরকান আহমদ, মাওঃ আনাছ মাদানী ও মাওঃ আশরাফ আলী নিজামপুরী প্রমুখ।
উক্ত মাহফিলে সকাল থেকে দুর-দুরান্ত থেকে মুসল্লিগন স্বতস্ফুর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন, বিশাল এই মজমায় লক্ষ জনতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। মাঠের কোথাও তিল ধারনের ঠাঁই ছিলনা । রাত ৮টা পর দাওরায়ে হাদিসের ৩ হাজার ফারেগীনদের দস্তারবন্দি শেষে দেশ ও জাতীর কল্যাণ কামনায় মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল সমাপ্ত হয়।