আরিফ চৌধুরী : কবিতা এক ধরনের শব্দ, যা ব্যবহারের সৃষ্টির মাধুর্য্যতায় কাব্য রুপ লাভ করে কবির চেতনায়, কাব্যর বিন্যাসে গড়ে উঠা শব্দের সৃষ্টিতে। কবি তার অভিজ্ঞতার আলোকে নিজস্ব উপলব্দিতে তার প্রাণান্ত মেধা ও মননে সক্রিয় করে তুলেন কবিতাকে। কবিতায় তার মনন ও দর্শন, স্বপ্ন উচ্চারিত হয় স্বতন্ত্র শব্দের স্বত:সিদ্ধ উপলব্দিতে। কবির সঠিক শব্দের ব্যবহার ও গাঁথুনিতে কবিতাকে নিয়ে যায় অনেক অনেকদূর পাঠকের কাছাকাছি। কবির নির্মোহ ও সঠিক শব্দের ব্যবহার কবির অনূভুতিকে নতুন মাত্রায় পাঠকের কাছে পোঁছে দেয়। সমাজ জীবনে সামাজিক মুল্যবোধ পরিবেশ প্রেম প্রণয়, আনন্দ -বেদনার ঘাত প্রতিঘাত নতুন স্বপ্নের জিজ্ঞাসা কবির কবিতায় উঠে আসে সৌন্দর্যের সৃষ্টির নব সন্ধ্যানে। কবির সৃষ্টির রহস্যময়তা কবিতাকে করে তুলে সৌন্দর্যময়তায পরির্পূণ। তাই দেশ কাল ছাড়িয়ে সমকালে কবির কবিতা হয়ে উঠে সার্বজনীন। কবিতাকে কবির স্বপ্নের রাজ্য বিচরণ করে তাকে শৈল্পিক ও নান্দনিক করে তুলতে কবি সবসময় থাকেন সচেতন। সমকালীন সময়ের কবিতায় প্রকৃতি, নৈসর্গ, মানুষের জীবনবোধের চেতনা, প্রেম, প্রেমানুভুতির প্রকাশের ব্যাপকতা, শব্দ সংযোজনের রুপ প্রকাশিত হচ্ছে এবং কবিতা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে মানবিক জীবনবোধের দু:খ বেদনা কে ধারণ করে তাদের প্রকাশভঙ্গি ও কৌশলের নতুনত্বে চলছে নতুন সৌন্দর্য্যবোধে।
তেমনিভাবে কবিতায় সৌন্দর্যবোধ কল্পনার পথ ধরে নতুন স্বপ্ন ও অর্ন্তগতবোধ, শব্দের দ্যেতনা সৃষ্টির একাগ্রতায় তুলে এনেছেন তারুণ্য দীপ্ত দ্রোহ, প্রেম ও চেতনার কবি সাইমুন নজরুল তার কাব্যগ্রন্থ “ সুপ্রভাত প্রেমা”তে।
কবি তার নিজস্ব শব্দ, সৌন্দর্য, কল্পনার পথ ধরে কবিতায় সৌকর্য ও শিল্পের প্রকৃত স্বরুপ নির্মানে কবিতায় ছিলেন উজ্জ্বল। কবির মূল লক্ষ্য কবিতায় নতুন প্রাণ সৃষ্টির সষ্ণার করা, কবিতায় বৈচিত্রতায় শব্দ শৈলিতে পাঠকদের মনোভূমিতে আলোড়ন তোলা। তেমনিভাবে কবি সাইমন নজরুল তার‘ সুপ্রভাত প্রেমা’ তে পাঠককে নিয়ে গেছেন তার কবিতায় শব্দের বৈচিত্র্যতা, সৌন্দর্যবোধের সুষ্টিতে। কবি কবিতায় মানব মনের প্রেমানুভূতির আকুলতাকে প্রকাশ করতে গিয়ে কবি উচ্চারণ করেছেন “ কল্পনার সবটুকু সুখ” কবিতায়-
“কেউ দুবাহু বাড়িয়ে জড়ায় না আর বুকের ওমে
ভাসি না কতদিন সুখের জলে রাজহংস সদৃশ্য
সব দু:খ এক হয়ে নিমিষেই দু:খের রঙধনু
ঢেকে দিয়ে যায় আচমকা কল্পনার সবটুকু সুখ।
( কল্পনার সবটুকু সুখ- পৃষ্টা- ৩৩)
কবি তার কবিতায় চিহ্নিত করেন নারী মনের কল্পনায় জেগে উঠা ভাব ও নিমগ্নতা। তিনি নিজের রোমান্টিকতার রুপ প্রকাশ করতে গিয়ে কবি স্বত্বার পরিচয় দিয়েছেন একাগ্রতায়। কবি তার কবিতায় উচ্চারণ করেন জীবনের অনুশোচনার টানাপোড়েনের মাঝে নারী মনের অব্যক্ত আর্তি। যেমন-
“ কন্টক ব্যথা তো পারি সইতে এ হ্নদয়ে
পারি না কেবল সইতে কেবল তোমার অপেক্ষা
বসন্ত এসে বসন্ত রিক্ত হয়ে ফিরে
তবু শূন্য হৎ জুড়ে তোমার অপেক্ষা।
(কন্টক ব্যথা- পৃষ্টা- ৪৯)
কবির কল্পনায় অবচেতন মনে নিরন্তর ভাবনা জাগে, কবি স্বত্বার সীমানা পেরিয়ে কবি পৌছে যান মহাকালের কল্পনায়। নিজের প্রকাশের নতুন অবচেতন স্বপ্ন ভাবনায়। বেদনার্ত জীবনের উৎসভূমি থেকে কবিকে উঠে আসতে হয় নতুন পথে। জীবনের নিরন্তর ঘাত প্রতিঘাতের বেদনায়। কবি সৌন্দর্য কল্পনাকে ধারণ করে দু’চোখে নতুন সত্য ও বিশ্বাসের উদ্বেল সময়ের ছবি আঁকতে চেষ্টা করেন। তাইতো কবি উচ্চারণ করেন কবির নতুন চেতনাবোধ।
যেমনÑ “ অলৌকিক স্বপ্নে স্বপ্ন মুখের দর্শনে
চাইনা নতুন কওে স্বপন কুড়াতে,
বাস্তবিক গøানি ভুলে নির্মল আনন্দে
বাসতে চাই এখন উদ্ভাসিত সুখে।
(স্বপ্ন মুখের দর্শনে- পৃষ্টা-৪২)
আমাদের কাব্যভুবনে নতুন প্রজন্মের কবিরা নিজস্ব আঙ্গিক, ভাষা, শব্দের বৈচিত্র্যতায়
নতুন চিন্তার নিরীক্ষায় আধুনিক কবিতার পরিবর্তনশীলতাকে কেউ আয়ত্ব করতে পারেন, কেউ কেউ সময়ের সাথে তাদের কাব্যচর্চাকে বেগবান করতে নিজস¦তায় এগিয়ে চলেন।
কবি সাইমন নজরুল তার কবিতায় চেয়েছেন কবিতাকে ছন্দের মাধুর্যতার সৃষ্টিতে নিজের মনন ও সৃষ্টিশীলতাকে নিয়ে গন্তব্য এগিয়ে চলা। তিনি তাইতো অকপটে উচ্চারণ করেছেন কবিতায়-
“ মায়াবী সংগীতের মূচ্ছনায় ঘরের পর্দাগুলি
কলাপাতার মতো সারাক্ষণ দুলতে থাকে,
শরীর থেকে টপটপ ঝরে পড়া সুখের শিশির-
কান্নাকে থামাতে চায়, নরম হাতের র্স্পশে
অবিরত ঘুরতে থাকা তালপাতার হাতপাখা”।
(কবি সৈনিক- পৃষ্টা-২৪)
কবির পরিপূর্ণ ভাবনা থেকে সময়ের কবিতায় জীবন ঘনিষ্ট ব্যাকুলতাকে সত্য ও সুন্দরের নান্দনিক আবহে নিজেকে প্রকাশ করেন অনুভূতির নতুন চেতনায়। কবি সাইমন নজরুল মুলত: কবি হলেও কথাসাহিত্যর নানান শাখায় তার বিচরণ ও লেখার শৈলি কবির লেখায় নতুন রপে প্রকাশিত হয়েছে।সমকালীন কবিতার গতি প্রকৃতি কবি রপ্ত করে কবির “সুপ্রভাত প্রেমা” কাব্য গ্রন্থের ৫৫টি কবিতায় স্বপ্ন ও সৌন্দয্যবোধ, প্রেমের কল্পনাশক্তি ও বেদনাবোধের অনুরণন প্রকাশ পেয়েছে ভিন্নতায়। মানবিক জীবনবোধের কল্পনায় জেগে উঠার রুপায়ন কবির কবিতাকে করেছে স্বতন্ত্র। কবিতা তার নতুন মাত্রা পেয়েছে রহস্যময়তা ও শব্দের শৈলিতে।
দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে একুশের বইমেলা ২০১৮তে প্রকাশিত কবিতার বইটির নান্দনিক প্রচ্ছদ করেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত। বইটির পাঠকপ্রিয়তা কামনা করছি।