দেশে আজ গণতন্ত্র নেই, সরকার গণতন্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের দাবী জানিয়ে বলেন, ডিসি এসপিরা ইসির কথা শোনেনা, তাই নির্বাচন কমিশনকে বাতিল করে, সকল দলের সমন্বয়ের মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন করতে হবে। আর না হলে এই সরকারের অধিনে নির্বাচন অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচীব ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জ্বালানি তেল, চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ‘সরকারের পদত্যাগ, সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা-মামলা, নির্যাতন, গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গতকাল বুধবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে বন্দর নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় গণসমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রিয় বিএনপির সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ।
বিএনপির ডাকা গণসমাবেশে সকাল থেকে হাজারো নেতা-কর্মীদের ঢল নামে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে। বিকেল ৩টার দিকে লোকে লোকারন্য হয়ে উঠে। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, সমাবেশে আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেছেন। তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। তারা বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচীব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, সরকার আজ দেশকে আজ শ^শানে পরিণত করেছে। দেশে আজ নিত্য প্রয়োজনীয় মূল্য মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তেলের দাম ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। দেশের মানুষ আজ দারিদ্র সীমার নিচে। দেশের মানুষ আজ ভাল নেই। সরকারের পতন না হলে জনগণ ভোটের অধিকার, বাক স্বাধীনতার অধিকার পাবেনা।
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু বলেন, এ সরকারের পতনের কোন বিকল্প নাই। শেখ হাসিনার পদত্যাগ ছাড়া আর কোন দাবী নেই। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন তবে আন্দোলনের মাধ্যমে শীঘ্রই এই সরকারের পতন হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। হামলা মামলার মাধ্যমে আমাদের নেতা কর্মিরা পুড়ে পুড়ে সোনা হয়ে গেছে। আজকের জনসমুদ্র শেখ হাসিনাকে বার্তা দিয়েছে। যতই হামলা মামলা করুন বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।
খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নেতা কর্মিদের উপর নির্যাতন, গুম, খুন ও মামলা করেছেন। তবু দেশকে বিএনপি মুক্ত করতে পারে নাই। বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্র নেই। সরকার গণতন্ত্রের সব শেষ করে দিয়েছি। আজ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আমরা তার প্রতিবাদ করছি। অবৈধ, স্বৈরাচার, হাইব্রিড দল ও নেতাদের কথা শুনে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। ভোট ডাকাতি করে তারা এই দেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। অতিত বলে দেশে যখন গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে, তখনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণ কঠোর আন্দোলন করে। এই চট্টলা থেকেই এই সরকারের পতনের ডাক দিলেন তিনি।
বিএনপি সুত্রে জানা যায়, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে, ২২ অক্টোবর খুলনায়, ২৯ অক্টোবর রংপুরে, ৫ নভেম্বর বরিশালে, ১২ নভেম্বর ফরিদপুরে, ১৯ নভেম্বর সিলেটে, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় ও ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ হবে। দেশের সব বিভাগে গণসমাবেশের পর ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ করবে দলটি।
প্রসঙ্গত, পলোগ্রাউন্ড মাঠে সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে এ মাঠে সমাবেশ করতে চাইলেও প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় করতে পারেনি।