নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার দাবি জাতীয় পার্টির

0

সংবিধানের আলোকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করার পক্ষে সংসদের বিরোধীদলীয় দল জাতীয় পার্টি।বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে নতুন ইসির অধীনে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইসি গঠন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি জানিয়েছে।

দলটি মনে করে, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও নির্বাচন কমিশন গঠনে দেশে একটি আইন নেই এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংবিধানে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার। তাই দ্রুতই নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার দাবি জাতীয় পার্টির।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেন, আমরা চাই, সংবিধানের আলোকে আইনের মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন গঠন হবে, যারা দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে। এতে নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধান হবে। প্রতি পাঁচ বছর পর রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেন। এতে নানাবিধ সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আবার দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে কমিশনার নিয়োগ হলে মানুষের ভোটাধিকার লঙ্ঘিত হয়।

জাপা চেয়ারম্যান মনে করেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও এ বিষয়ে সিভিল সোসাইটির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য একটি আইন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আবার সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার বাধ্যবাধকতা আছে। জি এম কাদের আশা প্রকাশ করেন, আইনের মাধ্যমে সৎ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে, যারা নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর করতে পারবে। এতে করে নির্বাচন কমিশন দেশের মানুষকে নির্বাচনের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, এতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে দেশের মানুষ নিজেদের ভূমিকা আরো জোরালো করতে পারবে। তখনই গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ পেতে শুরু করবে দেশের মানুষ।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করলে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই হবে। তাই আইন করে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করতে পারলে সব নির্বাচন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান হবে। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে বিরাজনীতিকরণ চলছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সুশীল সমাজ। তাদের দাবি, সংবিধানেও নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দেয়ার জন্য আইন করার কথা বলা আছে। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পেরুতে চললেও দেশে এখনো এই আইনটি করা হয়নি। গত দুই দফা রাষ্ট্রপতি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠন করেছেন। সাংবিধানিকভাবে ইসি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান।

কমিশন গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলি-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করবেন।’ সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতি সব সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের (ইসি) নিয়োগ দিলেও ২০১২ সালে কমিশন গঠিত হয়েছিল একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে। ওই সময় প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি। গতবারের মতো এবারো সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন ইসি গঠনের কথা বলেছেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করবেন। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.