বিজয় কুমার, গাইবান্ধা থেকেঃ গত ক’দিনের টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফুলছড়ি তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) বিকাল ৩টা নাগাদ সাঘাটার সানকিভাঙ্গা বেরিবাঁধটি ভেঙ্গে অত্র মৌজার প্রায় ১শ বিঘা উঠতি আমন ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জনপ্রতিনিধিদের বন্যার পূর্বাভাষে বিগত ৭০-৮০ বছরের রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে এমন তথ্যে বানভাসী মানুষগুলো পানি আতংকে আতংকিত হয়ে পরেছে। জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ চার উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। জলমগ্ন ১১২ টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
ফুলছড়ির সিংড়িয়া বাঁধ ও সাঘাটা-গাইবান্ধা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সড়ক গড়িয়ে পানি আসায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে বালির বস্তা দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (১৫আগষ্ট) বিকাল ৪টা নাগাদ উক্ত সড়কের ভরতখালীর ভাঙ্গামোড় বাজার সংলগ্ন প্রায় ২৫ফুট দেবে যাওয়ায় এলাকাবাসি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে সাঘাটা-গাইবান্ধা সড়কে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রতিনিয়ত বের হওয়ায় যেকোন সময় সড়কটি ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সহ পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তৃর্ন এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত এলাকাবাসি।
এদিকে বন্যা দুর্গত এলাকার রাস্তা ঘাট, হাট-বাজার, বাড়ি-ঘর সহ ফসলি জমি বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী অনেকে গবাদিপ্রানী সহ পরিবার-পরিজন নিয়ে উঁচু সড়ক, রেল লাইন ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁয় নিয়েছে। দ্রুত পানি বৃদ্ধির কারণে নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষেরা আতঙ্কিত হয়ে পরেছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বর্তমানে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া শুরু হলেও কিছু কিছু এলাকায় এখনও তা পৌঁছেনি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইদ্রিশ আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বানভাসীদের জন্য এ পর্যন্ত ৫৮৮ মেট্রিক টন চাল ও ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্য সোমবার সকাল থেকে ২৯৪ মেট্রিক টন চাল ও ছয় লাখ টাকা বিতরণের কাজ চলছে। এছাড়া দুই হাজার প্যাকেট ( ৫ কেজি) শুকনো খাবার বরাদ্ধ চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. আমীর আলী এ প্রতিনিধিকে বলেন, বন্যা দুর্গত এলাকায় জরুরি ভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষে সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটার ২৬টি ইউনিয়নে একজন মেডিকেল অফিসারের নেতৃত্বে ২১ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বানভাসীদের চিকিৎসা সেবায় মেডিকেল টিম সার্বক্ষনিক কাজ করে
এছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন মেডিকেল অফিসারের নেতৃত্বে অপর একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষনিক বানভাসিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ব্লিসিং পাউডার, কলেরা স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমানে রয়েছে।