ইসলামে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব ও মর্যাদা

0

সব ধরনের অন্যায় ও অপরাধের সঠিক বিচারের বিধান রয়েছে ইসলামে। সমাজে শান্তি ও কল্যাণের জন্যই সঠিক বিচার জরুরি। অপরাধীর বিচার ও শাস্তি না হলে সমাজে অন্যায়-অনাচার আরও বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তায়ালা নিজে ন্যায়বিচারক এবং রাসুল (সা.)-কেও ন্যায়বিচারের মূর্তপ্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যারা ইনসাফ ও ন্যায়বিচার করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। পবিত্র কোরআনে ন্যায়বিচারের আদেশ দিয়ে বলা হয়েছে ‘তোমরা যদি বিচার কর, তবে ইনসাফপূর্ণ বিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা মায়েদাহ : ৪২)

পৃথিবীতে যত শ্রেষ্ঠ জাতি অতিবাহিত হয়েছে তারা প্রত্যেকেই আপন সমাজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অপরাধের সঠিক ও সুষ্ঠু বিচারই বিশ্বসভ্যতায় তাদের উন্নত করেছিল। আল্লাহ তায়ালা হজরত দাউদ (আ.)-কে লক্ষ্য করে বলেছেন ‘হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে শাসক নিযুক্ত করেছি। অতএব তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার কর। এ বিষয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। তাহলে তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। এ কারণে যে তারা বিচার দিবসকে ভুলে গেছে।’ (সুরা সোয়াদ : ২৬)

বিচার প্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ তোমরা সর্বদা ইনসাফের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থেকো এবং নিজেকে আল্লাহ তায়ালার জন্য সত্যের সাক্ষী হিসেবে পেশ করো যদি এই কাজটি তোমার নিজের পিতা-মাতার কিংবা নিজের আত্মীয়স্বজনের ওপরেও আসে। সে ব্যক্তি ধনি হোক বা গরিব হোক এটা কখনও দেখবে না। কেননা তাদের উভয়ের চাইতে আল্লাহর অধিকার অনেক বেশি। অতএব তুমি কখনও ন্যায়বিচার করতে খেয়াল খুশি অনুসরণ করো না।’ (সূরা নিসা : আয়াত ১৩৫)।

দুনিয়াতে যে বিচারক সঠিক বিচার করবেন আল্লাহ তার জন্য অনেক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় ন্যায়পরায়ণ বিচারকগণ হাশরের ময়দানে আল্লাহর নিকটে নুরের মিম্বারে মহামহিম দয়াময় প্রভুর ডান পাশে মিম্বারের ওপর অবস্থান করবেন।

তাদের উভয় হাতই ডান হাত হিসেবে মূল্যায়িত হবে; যারা তাদের শাসনকার্যে তাদের পরিবারের লোকদের ব্যাপারে এবং তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্বসমূহের ব্যাপারে সুবিচার করেছে।’ (মুসলিম : ১৮২৭; নাসায়ি : ৫৩৭৯)। অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে হজরত ইবনে বুরায়দাহ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘বিচারক তিন প্রকার। এক প্রকার বিচারক জান্নাতি আর অপর দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামী। জান্নাতী হলো সেই বিচারক, যে সত্যকে জেনে-বুঝে সে অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করে। আর যে বিচারক সত্যকে জানার পর বিচারে জুলুম করে সে জাহান্নামী এবং যে বিচারক অজ্ঞতাবশত ফায়সালা দেয় সেও জাহান্নামী।’। (আবু দাউদ : ৩৫৭৩)

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.