
সংগৃহিত
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসটি গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এতে করে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ২২ লাখ ৫০ হাজার ৭৫২ জন। এদের মধ্যে বর্তমানে ১৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৪৬ জন চিকিৎসাধীন এবং ৫৭ হাজার ১৩৬ জন (৪ শতাংশ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ৫ লাখ ৭১ হাজার ১৪৫ জন (৭৯ শতাংশ) সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৬১ জন (২১ শতাংশ) রোগী মারা গেছেন।
করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ প্রায় ১০ হাজার ২৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩৭ হাজার ১৫৮ জনের। প্রতিদিনিই রেকর্ড আক্রান্ত ও মৃত্যুতে কঠিন অবস্থা পার করছে দেশটির জনগণ। অবস্থা আরও বেগতিক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এরপরই রয়েছে ইউরোপের দেশ স্পেন। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ প্রায় ৯০ হাজার ৮৩৯ জন। যেখানে মৃত্যু হয়েছে ২০ হাজার ২ জনের। ইউরোপের আরেক দেশ ইতালিতে আক্রান্ত ১ লাখ প্রায় ৭২ হাজার। যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ হাজার ৭৪৫ জন।
মৃতের সংখ্যায় চতুর্থ স্থানে একই মহাদেশের ফ্রান্স। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৯ জন। এরমধ্যে ১৮ হাজার ৬৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে বর্তমানে সংক্রমিতের সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ৬৯২ জন। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ হাজার ৫৭৬ জন। ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৯৭ জন। মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৫২ জন।
করোনার ভয়াবহতায় শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় শেষ তিনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান, এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যঞ্চলীয় দেশ তুরস্ক আর ইউরোপের দেশ বেলজিয়াম।
ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯ হাজার ৪৯৪ জন। প্রাণ হারিয়েছে দেশটির ৪ হাজার ৯৫৮ জন নাগরিক। প্রথম দিকে চীনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংক্রমণ ঘটলেও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হয় সেখানে।
অপরদিকে, আরেক মুসলিম দেশ তুরস্কে প্রথমদিকে করোনার অবস্থা তেমনটা বেগতিক না হলেও গতমাসের মাঝামাঝি থেকে ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়ে। তবে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে সেখানকার করোনা অবস্থা। দেশটিতে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৫৪৬ জন। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৭৬৯ জন।
ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৬ হাজার ১৩৮ জন। যেখানে মারা গেছে ৫ হাজার ১৬৩ জন নাগরিক। তবে সুস্থ হয়েছেন সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষ।
দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ভারত। দেশটিতে আগামী ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়েছে। মোদির দেশে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪৮৬ জন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হওয়ায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে। এছাড়া নতুন করে ২৬৬ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৩৮ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এপর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫৮ জন।