আবারো রডের বাজার অস্থির

0

অন্যান্য দ্রব্যমুল্যের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশে রডের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সব ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডের প্রতি টন রডে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে ভালো ব্র্যান্ডের প্রতি টন রড (৭২.৫ গ্রেডের) বিক্রি হচ্ছে ৮৭ হাজার ৫০০ থেকে ৯০ হাজার টাকায়। একই গ্রেডের নন-ব্র্যান্ডের প্রতি টন রড ৮৩ হাজার টাকা থেকে ৮৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপের দাম বেড়েছে অনেক। একই সঙ্গে ডলারের দামও বেড়েছে। এ ছাড়া ঘাটতিও দেখা দিয়েছে কাঁচামালের। কাঁচামালের ঘাটতির কারণে কমে গেছে উৎপাদনও। যার কারণে কম্পানিগুলোর কাছে অর্ডার দিয়েও চাহিদামতো রড পাচ্ছেন না বলেও জানান ব্যবসায়ীরা। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে টনে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় রডের বাজার আবারও স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বিএসআরএম ব্র্যান্ডের প্রতি টন রড ৮৯ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেএসআরএম ব্র্যান্ডের রড ৮৮ হাজার থেকে ৮৯ হাজার টাকায়, আরএসএম ব্র্যান্ডের রড প্রতি টন ৮৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিপিএইচ ইস্পাত ব্র্যান্ডের প্রতি টন রড ৮৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নন-ব্র্যান্ডের রডের মধ্যে এসএস, জেএসআরএম, জেডএসআরএম ও এমএসডাব্লিউর কম্পানির প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৮৩ হাজার টাকা থেকে ৮৪ হাজার টাকায়। গতকাল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরেও দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি টন রডে ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার ৭২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি টন রডের দাম ছিল ৮৫ হাজার টাকা থেকে ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা। দাম বেড়ে গতকাল প্রতি টন রড হয়েছে ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৯০ হাজার ২৫০ টাকা।

এই ব্যবসায়ী আরো বলেন, ‘রড উৎপাদনের কাঁচামাল সংকটের কারণে বাজারে এখন রডের সংকট দেখা দিয়েছে। আগে রডের অর্ডার দিলে এক দিন পরেই চলে আসত, এখন অর্ডার দিলে পাঁচ থেকে সাত দিনেও রড দিচ্ছে না অনেক কম্পানি। ’

রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ইস্পাতের পাশাপাশি ইস্পাত তৈরির কাঁচামাল বিলেট, প্লেট ও স্ক্র্যাপের দামও টনে দুই থেকে চার হাজার টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি টন স্ক্র্যাপ ৫৮ হাজার টাকা, প্লেট ৬৭ হাজার টাকা এবং বিলেট ৭২ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে স্ক্র্যাপ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা, প্লেট ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিলেট ৭১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.