ইবাদতের মাধ্যমে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত

0

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে পবিত্র লাইলাতুল কদর। হাজার মাস ইবাদত অপেক্ষা উত্তম করে আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরকে সম্মানিত করেছেন। এই রাতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমাগম ঘটে মসজিদে মসজিদে। উদ্দেশ্য একটাই ইবাদতের মাধ্যমে এই রাতকে জাগিয়ে রাখা। তেমনি বাসা-বাড়িতেও প্রস্তুতি ছিল কদরের রাতকে সফল করার।

গত রাতেই খতমে তারাবি শেষ হয়েছে। খতমে কোরআনকে কেন্দ্র করে মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয় এই রাতে এবং ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরা অবতীর্ণ করা হয় এই রাতে। তাই শবেকদরের রাতটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহপাকের ক্ষমা প্রার্থনা ও পুণ্য লাভের আশায় অতিবাহিত করেন।

কুরআন তেলাওয়াত, বেশি বেশি নফল নামাজ, জিকির-তাসবিহ এবং চোখের পানি ঝড়িয়ে ইবাদতের মাধ্যমে কাটিয়েছেন রাতটি। অনেকে কবরস্থানে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করে দোয়ায় অংশ নেন। মুসলিম জনগোষ্ঠী ফজরের নামাজের পর সৃষ্টিকর্তার করুণা লাভের জন্য বিশেষ প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করেন এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।

এরপরও সবার ভেতরে আকুলতা ছিল যদি আর একটু বেশি ইবাদত করা যেত, হয়তো আল্লাহর সান্নিধ্য আরও একটু বেশি পেতাম।

পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শনিবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দেশের সব মসজিদেই তারাবির নামাজের পর থেকে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন ছিল। শবেকদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিওগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে।

২৭শে রমজানের রাত শেষ হয়েছে। মুসলিম জনগোষ্ঠী এই রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে কাটিয়েছে। রাসূল (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদরকে তালাশের কথা বলেছেন। সে মতে ২৯ রমজানের রাতও শবে কদর তালাশের রাত।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.