কবি জাহাঙ্গীর আলম ১৯৫৩ সালের ১৫মে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখীল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম আলহাজ্ব সামশুল আলম চৌধুরী ও মাতা হাজী জারিয়া খাতুনের সাত সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সন্তান। ছাত্র জীবন ১৯৬৮ সালে বাম রাজনীতি ছাত্র ইউনিয়নে জরিয়ে পড়েন। ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় কবিতা প্রবন্ধ লিখে অনেক খ্যাতি অর্জন করেন। ৬৯ এর গণ অভ্যত্থানে স্যার আশুতোষ সরকারী কলেজে অধ্যায়ন কালে ১১ দফা আন্দোলনে উদ্যেগী ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন। এবং ছাত্রজীবনে দৈনিক আজাদী ও সাপ্তাহিক দেশবাংলা পত্রিকার বোয়ালখালী প্রতিনিধি হিসাবে সাংবাদিক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। যুদ্ধের পরে কর্মজীবনে পুলিশ বাহিনীতে সাব ইন্সপেক্টর হিসাবে যোগদান করেন। সফলতায় পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করে কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহন করেন। তিনি সততা, সমাজসেবা, কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে মাদার তেরেসা স্বর্ন পদক, শেরেবাংলা পদক, স্বাধীনতা স্মৃতি পদক, বেগম রোকেয়া পদক ও পদ্মকুড়ি পদকসহ অসংখ্য পদকসহ সম্মাননা প্রাপ্ত হন।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন করতে যেয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহন করি। সে সময়ের মনমানসিকতায় দেশের জন্য একটি ভিন্ন আবেগ ছিল। আমি কেন দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাই দেশের স্বার্থ এবং স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। আর সেই পবিত্র মনমানসিকতা নিয়েই দেশের মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহন করেছি।
কর্মজীবন নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, যুদ্ধের পর শিক্ষাজীবন শেষ করে ১৯৭৩ সালে সরাসরি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সাব ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করি। যদিও ছাত্রজীবনে পুলিশ সম্পর্কে আমার একটি নেতিবাচক ধারনা ছিল। কখনো ভাবিনি পুলিশে চাকুরী করবো। কিন্তু অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারনে সেই সময়ে পুলিশ বিভাগেই চাকুরীর জন্য আবেদন করি এবং কৃতকার্য হই। তবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করে বুঝতে পারি পুলিশ সম্পর্কে মানুষের যে নেতিবাচক ধারনা তা ঠিক নয়। আসলে এই পেশায় থেকে মানুষের যেমন কাছাকাছি আসা যায় তেমনি মানুষের সেবাও করা যায়। আর আমি সেটা এই চাকুরিতে থেকেই করেছি।
সেইসাথে পুলিশের চাকুরীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে জনগণের সেবায় নিজেকে আতœ নিয়োগ করেছি। ছোটবেলা থেকেই আমি জনগনের পাশে থেকে জনগণের কষ্টের ভাষা বুঝেছি, তাই কর্মজীবনে তাদের পাশে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে যতদুর সম্ভব জনগনের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছি। আমি আমার কর্মজীবনে দক্ষতার কারনে ১৯৯৩ সালে কম্বোডিয়া, ২০০৭ সালে পূর্ব তৈমুরে, ২০১১ সালে হাইতি মিশনে শান্তি রক্ষী হিসাবে মোট চারবার জাতিসংঘের শান্তিমিশনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদ থেকে অবসর গ্রহন করি। আমি আমার কর্মজীবনে সার্থকতা পেয়েছি।
তার লেখালেখি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি করি। যা আমার কাছে অসংগতি মনে হতো তা নিয়েই লেখতাম। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ছাপাতো। তাতে আমি উৎসাহিত হতাম। এই পর্যন্ত আমি পাচঁ শতাধিক কবিতা লেখেছি। ইতিমধ্যে প্রায় চৌদ্দটা কবিতার বই আমার প্রকাশিত হয়েছে। আমি কবিতার পাশাপাশি মরমী গান, আধুনিক গান লেখি। এর মধ্যে আমার লেখা গানের একটি সিডিও বেরিয়েছে।
বর্তমানে আপনার অবসর জীবন কিভাবে কাটছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন বয়স হয়েছে। কিন্তু কর্ম বিমূখ নই। আমি লেখালেখির পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য চট্টগ্রাম নাগরিক অধিকার সংগ্রাম পরিষদ করি। বর্তমানে আমি তার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। মানবাধিকার কমিশনের চট্টগ্রাম মহানগরের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি তারপর সেখান থেকে পদত্যাগও করেছি।। রাজনৈতিক ভাবে এখন আমি জাসদের মহানগর সিঃ সহ সভাপতি হিসাবে দলের সাথে কাজ করছি এবং সুন্দর সমাজ বির্নিমানে সামাজিকভাবে যতদুর সম্ভব কাজ করছি প্রতিনিয়ত। চেষ্টা করছি সবসময় জনমানুষের পাশে থাকতে।