মিলন খান, খোকসাকুষ্টিয়ার খোকসা কালিবাড়ী পাড়ার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: মজিদ এর স্ত্রী মোছাঃ রহিমা খাতুন তার স্বামীর পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল এবং দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আপন দেবর মোঃ ওহাব ও তার ছেলে মিন্টুর বিরুদ্ধে। সু-বিচারের দাবীতে অসহায় বৃদ্ধ রহিমা খাতুন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যুদ্ধ পরবর্তীকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ তিনি স্ত্রী সন্তান সহ ইন্ডিয়াতে থাকতেন। মাঝে মাঝে দেশে আসতেন। তার মৃত্যর পর তার স্ত্রী দেশে চলে আসেন । স্বামীর বাড়িতে তার নিজের ঘড় না থাকায় তিনি কখনও বাবার বাড়ি থেকেছেন আবার কখনও স্বামীর ভিটায় আসলেও প্রতিবেশীদের আশ্রয়ে থাকতে হত তার। এই যাওয়া আসার মাঝে তিনি অনেক বার তার দেবর ও দেবরের ছেলেকে তার জমি বুঝিয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এবং তিনি এটাও জানার চেষ্টা করেছেন তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পান কিনা? কিন্ত তারা তাকে জানিয়ে দেন তার স্বামী কোন টাকা পয়সা পায় না। এভাবেই চলছিল দীর্ঘদিন । পরবর্তীতে লোকমুখে সে জানতে পারে তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা পান। পূনরায় তার দেবরের কাছে তিনি জানতে চান ভাতার বিষয়ে সে সময় তারা তাকে জানায় ভাতার টাকা যা পায় তা দিয়ে তার শাশুড়ীর ঔষধ কিনতেই টাকা ফুরিয়ে যায় । এটা জানার পর তিনি তার স্বামীর ভাতার টাকা আর জমি ফেরত চায়। কিন্তু তার দেবর ও দেবরের ছেলে মিন্টু জমি ও ভাতার বই বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার এই সমস্যার কথা তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে জানান। এরপর ঐ কাউন্সিলরের সহযোগীতায় তিনি ভাতার কার্ডটি নিজের নামে করতে সক্ষম হলেও এখনও জমি বুঝে পাননি। বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: মজিদের স্ত্রী রহিমা খাতুনের এখনও মাথা গোজার ঠাঁই হয়নি।
রহিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তার দেবর ওহাব বিশ্বাস ( ৬৫ ) ও তার ছেলে মিন্টু বিশ্বাসের (৩৮) কাছে আমি বহুবার জানতে চেয়েছি আমার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান কিনা? কিন্ত তারা আমার কাছে বিষয়টি না জানিয়ে গোপন রাখে। দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর পর জানতে পারি আমার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা পান এবং আমার শাশুড়ীর নামে টাকা উত্তোলন করা হতো। এছাড়া আমার স্বামীর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১ শতক ৮০ পয়েন্ট জায়গা সেই জায়গার থেকেও আমার বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে তারা ফাঁকি দিয়ে আজমা হিসেবে ৩০ পয়েন্ট লিখে নেয়। কিন্তু লিখে নিয়েও আমার ১ শতক ৫০ পয়েন্ট জমি দিচ্ছে না। আমাকে বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো আমার স্বামীর পৈত্রিক জমির ওপর মিন্টু ঘড় তুলে দখল করে রেখেছে। এ সময় তিনি দাবী করেন বৃদ্ধ বয়সে আমি আর ভেসে বেড়াতে চায়না, আমি খুবই অসহায় । আমি এখানে ঘড় তুলে বসবাস করতে চায় এবং আমার ঘড় থেকে বেরোবার পথ চাই।
এ ঘটনায় ওই মুক্তিযোদ্ধার চাচাত ভাই লুৎফর (৬৫) বলেন, ওহাবের ছেলে মিন্টু ঘড় তুলে রাখছে, ও ঘর সরিয়ে নিলেই সে ঘর তুলতে পারে। কিন্তু মিন্টু তা করছেনা। এতো দিন ভাতার টাকা তুলে ওরাই ভাগবাটোয়ারা করে নিত।একই অভিযোগ আ: মজিদের বড় ভাই মৃত আ. গফুরের ছেলে আলমের (৪০) আলম বলেন, মিন্টু আমার দাদীর কাছ থেকে আমার বাবার ও আমার মুক্তিযোদ্ধা চাচা আ. মজিদের জমির ৩০ পয়েন্ট করে দুজনার কাছ থেকে ৬০ পয়েন্ট জমি কৌশলে লিখে নিয়েছে যা আমরা জানতাম না।
অভিযোগ অস্বীকার করে, ওহাব বিশ্বাস বলেন, আমার ছেলে তার নিজের জমির উপর ঘর তুলে রয়েছে সে যতটুকু পাবে সেটা তার ফেরত দেওয়া হবে। সে জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য দখলীয় জায়গার অংশ থেকে ঘর ভেঙ্গে ফেলেছে। কিন্তু এখন আমার ছেলের ঘর নির্মান করতে দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কাশেম তরুন বলেন, যখন তাদের জমি ভাগাভাগি হয় তখন আমরা মজিদের ভাগের ১ শতক ৮০ পয়েন্ট জমি আলাদাভাবে রেখে ৪ টি খুটি গেড়ে দিয়েছিলাম। পরে আস্তে আস্তে তার জায়গাটা মিন্টু দখল করে নেয়। সন্তানের মৃত্য হলে মা আজমা সূত্রে যে জমিটুকু পায় সেটুকু কৌশলে মিন্টু তার শতবর্ষী দাদীর কাছ থেকে লিখে নেয়। যার ফলে রহিমা খাতুনের জমির পরিমান এখন ১ শতক ৫০ পয়েন্ট। কিন্ত সেই জায়গায় জোর করে ঘর তুলে আছে মিন্টু। ভাতার টাকার বিষয়ে সে আমার কাছে আসলে আমি তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মনজিল আলীর সহযোগীতায় তার নামে করে দিয়েছি। রহিমা খাতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। যার প্রেক্ষিতে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে, খোকসা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. ইসাহক আলী জানান, আমি সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষকে বলেছি আপনারা জায়গাটা মেপে আমার কাছে একটা রিপোর্ট দেন। কিন্ত তারা এখনো সেটা করেনি যেহেতু পাবলিক প্রপার্টি তাই আইনগতভাবেই বিষয়টা সমাধান করতে হবে।