দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে সর্ববৃহৎ ছয় লাখ মুসল্লির ঈদের জামাত

0

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে এই সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ঈমামতি করেন দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সামশুল আলম কাশেমী।

বৃহৎ এই ঈদের জামায়াতে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, পুলিশ সুপার হামিদুল আলমসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন।

দিনাজপুর ছাড়াও বগুড়া, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলাসহ আশে-পাশের জেলার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসেন। বৃহৎ এই জামাতে নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি আশেপাশের ও দুরদুরান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা।

বড় এই ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের যাতে করে কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়তে হয় সে জন্য অস্থায়ী ওজু, পানি, টয়লেট ব্যবস্থা করা হয়। জঙ্গি হামলাসহ কোনো ধরনের নাশকতা যাতে না হয় সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়।

র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসারসহ সব ধরনের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারীসহ সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়।

দেশের মধ্যে আয়তনে বড় প্রায় ২২ একর বিশাল এই মাঠে যেন গত বছরের তুলনায় আরও বেশি মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে তারই প্রস্তুতি হিসেবে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাব (যেখানে ইমাম দাড়াবেন) তার উচ্চতা ৪৭ ফিট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ। এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে তিন কোটি ৮০ লাখ টাকা। শোলাকিয়ার চেয়ে বড় জামাতের আয়োজন করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদগাহ মাঠটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও মনোরম প্রকৃতির সৌন্দর্য ও নান্দনিক হিসেবে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।

ঐতিহাসিক গোড়-এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম দিকে প্রায় অর্ধেক জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত এই ঈদগাহ মিনারটির পাদদেশে গত বছরে ঈদের দুইটি নামাজ আদায় হয়েছে। এবার নিয়ে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হলো।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, নামাজ আদায়ের আগের দিন থেকেই এ ঈদগাহ ময়দানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিল। স্থাপন করা হয়েছিল অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা।

বৃহৎ এই জামাতের মুল উদ্যোক্তা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম জানান, ঈদুল ফিতরের এই জামাতে প্রায় ছয় লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে। ঈদের জামাত সফল করার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.