
Sahadat Hossain
E-mail:hisahadan@gmail.com
Cell: +8801716 555 834
“৭০ বছর এখনো শিশুর মতো”- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এই মন্তব্য যেন এক নতুন যুগের দরজা খুলে দিল। জবাবে চীনের প্রেসিডেন্ট শিজিনপিং বললেন, “এই শতাব্দীতে মানুষের গড় আয়ু ১৫০ বছর র্পযন্ত পৌঁছাতে পারে।” এই কথোপকথন শুধু রাষ্ট্রনেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং একটি বৈশ্বিক বিতর্কের সূচনা-মানবদেহ, প্রযুক্তি, এবং নৈতিকতার সীমা নিয়ে।
প্রাচীন জ্ঞান ও বাস্তবতা
চীনা কিংবদন্তি তেলিচিং-ইউয়েনের ২৫৬ বছর বেঁচে থাকার দাবি প্রচলিত, তবে গবেষকরা এটিকে মিথ বলে মনে করেন। যাচাইকৃত রেকর্ডে ফ্রান্সের জ্যান লুইস কালমঁ ১২২ বছর বেঁচেছিলেন। জাপান দেখিয়েছে-খাদ্যাভ্যাস, শৃঙ্খলা ও সময়নিষ্ঠতা দীর্ঘায়ুর মূল চাবিকাঠি। গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে গড় আয়ু বেড়েছে; মহামারির ধাক্কায় সাময়িক পতনের পর আবার পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে।
নেতৃত্ব ও দীর্ঘায়ু
পুতিনের যুক্তি-একজন মানুষ যখন জাতি পরিচালনার মতো গুরুদায়িত্ব নিতে প্রস্তুত হন, তখনই মৃত্যু এসে সব বিনিয়োগ ব্যর্থ করে দেয়। দীর্ঘায়ু তাই শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্রের জন্যও কৌশলগত সম্পদ-জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
প্রযুক্তির উত্থান: কার জন্য?
এলনমাস্কের ঘবঁৎধষরহ শমস্তিষ্কে চিপবসিয়ে অও ও মানব চিন্তা সংযোগের স্বপ্ন দেখছে। স্বাস্থ্যসেবায়অও, অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও ল্যাবে তৈরি অঙ্গ (নরড়বহমরহববৎবফ ড়ৎমধহং) দ্রæত এগোচ্ছে। কিন্তু এই প্রবেশাধিকার এখনো মূলতধনী দেশ ও সক্ষম ব্যক্তির দিকে ঝুঁকে আছে। ঋউঅ-অনুমোদিত ট্রায়াল শুর æহলেও সাধারণ নাগরিকের নাগাল পেতে সময় লাগবে।
দারিদ্র্য পীড়িত দেশগুলোর বাস্তবতা
ভারত, বাংলাদেশ, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকায় অঙ্গ পাচার সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে। দরিদ্র মানুষকে দালালচক্র ভুয়া কাগজপত্র ও প্রতিশ্রæতির ফাঁদে ফেলে সীমান্ত পারে প্রতিস্থাপনে ঠেলে দেয়-প্রায়শই ভারত-বাংলাদেশ করিডরে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিডনি বিক্রির কম দামে শোষণ ও উচ্চ দামে প্রতিস্থাপনের বর্ণনা আছে; এই বৈসাদৃশ্যই বৈশ্বিক বৈষম্যের নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
মানবিক মূল্যবোধ ও করণীয়
জাপান শেখায়-দীর্ঘায়ু আসে শৃঙ্খলা, খাদ্যাভ্যাসও সম্প্রদায়িক যতœ থেকে। পশ্চিম সতর্ক করে-অমরত্বের দৌড়ে নৈতিকতা হারাতে পারে। পূর্ব দেখায়-রাষ্ট্র নেতারা ষড়হমবারঃু-কে কৌশল হিসেবে দেখছেন। কিন্তু দক্ষিণের দরিদ্র মানুষ? তাদের শরীর যেন পাচারের জ্বালানিনা হয়, তাদের জীবন যেন অঙ্গে নয়-অস্তিত্বে মূল্যবান হয়।
নীতিগত অগ্রাধিকার (সংক্ষিপ্ত)
১) ন্যায্য প্রবেশাধিকার: জনস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ, সাশ্রয়ী ওষুধ-প্রযুক্তি, আয়-ভিত্তিক সাবসিডি।
২) নৈতিকশাসন: বায়োটেক/অও-এরজন্য স্বচ্ছতা, বায়োএথিক্স বোর্ড, ঝুঁকি-লাভ মূল্যায়ন।
৩) কঠোর আইন প্রয়োগ: অঙ্গ পাচার বিরোধী করিডর ভিত্তিক টাস্কফোর্স, সীমান্ত-সহযোগিতা, ভুক্তভোগী সুরক্ষা।
উপসংহার
দীর্ঘায়ু যদি কেবল ধনীদের নাগালে থাকে, তবেতা মানবিক নয়। প্রযুক্তি যদি কেবল শাসকদের স্বার্থে কাজ করে, তবেতা গণতান্ত্রিক নয়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত-দীর্ঘায়ুতে সমতা, প্রযুক্তিতে নৈতিকতা, এবংপ্রতিটি জীবনে মর্যাদার নিশ্চয়তা।
যে পৃথিবীতে মানুষ ১৫০ বছর বাঁচতে পারে, সেই পৃথিবী যেন এমন হয় যেখানে প্রথম ৫০ বছর বাঁচাটাই কারও জন্য বিলাসিতা না হয়।