হাটহাজারীতে আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রহ:) স্মরণ সভায় মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী
পৃথিবীর অস্তিত্বের সঙ্গে ও আশুরার দিনের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান

0

উপমহাদেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী ইসলামী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সাবেক মরহুম জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম থেকে দায়িত্ব পালনে ধন্য নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবর্গ এবং জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের পার্লামেন্ট মেম্বারগণসহ সকল মনীষীদের স্মরণে এবং হাকীমুল উম্মাহ আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) এর স্মরণ সভা গত ২০ শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি উত্তর জেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার হাটহাজারী মিরেরহাট সিটি প্যালেস হলে হাফেজ মাওলানা আহমদ দিদারুল আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি, ফক্কীহুল উম্মাহ আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসোইন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সহ-সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ নেজাম ইসলাম পার্টির মহাসচিব আবদুল মাজেদ আতহারী, লে. কর্ণেল (অব:) সৈয়দ আলী আহমদ, অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজি, মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমী মাওলানা এরশাদ উল্লাহ কাসেমী, মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী, মাওলানা আবদুল্লাহ হারুন, মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন, মাওলানা হাবিব উল্লাহ নদভী, মাওলানা হাফেজ কামরুল ইসলাম, মাওলানা হাবিবুল হক বাবু, মাওলানা এমরান সিকদার, মাওলানা জুনাইদ বিন ইয়াহইয়া, মাওলানা ইকবাল মাদানী, মাওলানা মীর মোহাম্মদ কাছেম, মাওলানা তক্বী উদ্দিন আজিজ, সাংবাদিক কে এম. আলী হাসান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, হাফেজ মোহাম্মদ ইসলামাবাদী, মাওলানা নুর মোহাম্মদ কিবরিয়া, মাওলানা কামরুল ইসলাম, ড. ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মান্নান, মাওলানা আব্দুল্লা আল মামুন প্রমুখ।
সভায় প্রধান অতিথি আাল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রত্যেক শিক্ষা ব্যবস্থা যেমন তার একটা নিজস্ব ঐতিহাসিক ধারায় অগ্রসর হয়, তেমনি আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ও রয়েছে ক্রমবিকাশের এক সুদীর্ঘ ধারা ও ঐতিহ্য। এই শিক্ষা ব্যবস্থা ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম শাসনামলের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার একটা উত্তারাধিকার অবশ্যই সময়ের আবর্ত্তে এতে বহু পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজন হয়েছে। কওমী সনদের স্বীকৃতি ও তার একটি ধারাবাহিকতা মাত্র। আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) বৃটিশদের বিরোদ্ধ তার লেখনীর মাধ্যমে সংগ্রাম করে ভারতবর্ষের জনগণনকে সচেতন করেছেন। বৃটিশরা ভারতবর্ষে জুলুম নির্যাতন মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় আল্লামা আশরাফ থানভী (রহঃ) বৃটিশদের বিরোদ্ধ সংগ্রাম করার নির্দেশ দিয়ে ছিলেন। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠান হয়ে ছিল আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) দ্বি-জাতির তত্ত্বের দর্শনের কারণে।
তিনি পবিত্র আশুরার তাৎপর্য বিষয়ে বলেন, এ পৃথিবীর অস্তিত্বের সঙ্গে ও আশুরার দিনের গভীর সম্পর্ক বিদ্যামান। আশুরা দিনে মহান আল­াহ তা’লা সৃষ্টি করেছেন আকাশমালা, মর্তজগৎ, পর্বতরাজি, লওহ-কলম, ও ফেরেস্তাদের। আশুরা দিনে আল্লাহ নিজ আরশে আজিমে অধিষ্ঠিত হন। এই ভাবে পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই দিনের সম্পর্ক। এই দিনেই হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর জন্ম, খলিলুল­াহ উপাধীতে ভূর্ষিত ও নমরুদ্ধের অগ্নি থেকে রাক্ষাপান। হযরত ইদ্রিস (আঃ) কে বিশেষ মর্যাদায় চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয় আশুরার দিনে। সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর হযরত ইউসুফ (আঃ) এর সঙ্গে তার পিতা হযরত ইয়াকুব (আঃ) সাক্ষাৎ যে দিন হয়, সেই দিন ছিল আশুরার দিন। বিশ্বের বিভিন্ন জাতির ইতিহাসে কিভাবে এদিনটি সঙ্গে জড়িত তার প্রতি দৃষ্টি দিলে সহযেই আমরা আশুরার গুরুত্ব উপলদ্ধি করতে পারি। মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি, জান্নাতে অবস্থান, পৃথিবীতে প্রেরণ ও তাওবা কবুল সবই আশুরা তারিখে সংঘটিত হয়।
প্রধান আলোচক ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন বলেন, মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী ব্যক্তিরা সবকিছুতেই ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়ে থাকেন। মধ্যপন্থা অবলম্বেনের মধ্যে আল­াহর অনুগ্রহ ও কল্যাণ রয়েছে। আমাদের রাসূল (সাঃ) সব পরিবেশ-পরিস্থিতি ধৈর্য সাথে মোকাবেলা করতেন। যার ফলে হযরত রাসূল (সাঃ) যুগে মুসলামনরা সবক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করত। উগ্রতা, হিংস্রতা, অহন্কার ও ক্রোধ মানুষকে ধংশের দিকে ঠেলে দেয়। মধ্যপন্থা হলো ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে সাফল্য লাভের একমাত্র চাবিকাঠি। পবিত্র কুরআনে মধ্যপন্থা অবলম্বেনের নির্দেশ রয়েছে। আল­ামা আশরাফ আলী থানভী (রঃ) একজন মধ্যপন্থা অবলম্বকারী খাটি মোমিন মুসলমান ছিলেন। মাওলানা আনোয়ার হোসেন রাব্বানী ও মওলানা হাফেজ কামরুল ইসলাম কাছেমীর যৌথ পরিচালনায় সভা শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন আাল্লামা শাহ্ আবদুল ওহাব রহ. এর সাহেবজাদা হাফেজ মাওলানা আহমদ দিদার কাসমী।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.