
এ ঘটনায় গোদাগাড়ীর প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ইসরাইল হক। উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের দিয়াড়মানিকচক গ্রামে তার বাড়ি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেছে।
ইসরাইল হক জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে তিনি মোবারক আলী মাস্টার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মানিকচক মৌজায় ৮ বিঘা জমি কেনেন। এরপর থেকে জমিটি তার ভোগদখলেই আছে। কিছুদিন আগে হঠাৎ পাশের কেলাতোলা গ্রামের আবু বাক্কার ও তার তিন ভাই আসাদুল হক, গোলাম মোস্তফা এবং আবদুল কুদ্দুস জমিগুলো নিজেদের বলে দাবি করে বসেন।
এরপর প্রায় ২০ দিন আগে তারা ইসরাইলের জমিতে থাকা কলাই গাছের ওপরেই হালচাষ করে দেন। এ নিয়ে তিনি থানায় মামলা করেন।
এ মামলা চলমান অবস্থায় তিনি এবার ওই ৮ বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘায় ভুট্টা এবং তিন বিঘা করে জমিতে সরিষা ও কলাইচাষ করেন। কিন্তু গত বুধবার ভোরে তারা এসব ফসলের খেতে আগাছা দমনকারী বিষ ছিটিয়ে দেন। অথচ বিজ বপনের আগে কৃষকরা আগাছা দমনকারী বিষ ছিটিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, জমিতে থাকা
একটি শ্যালো ইঞ্জিনের সেচপাম্পের পাইপগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাম্পের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে ময়লা-আবর্জনা এবং কাঠের খণ্ড।
ইসরাইল বলেন, আট বিঘা জমিতে ফসল চাষে তিনি এরই মধ্যে অনেক টাকা খরচ করেছেন। এখন তিনি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অভিযুক্ত আবু বাক্কার বলেন, জমিগুলো তার বাবার। কিন্তু মোবারক মাস্টার দখল করে রেখেছিলেন। তিনি সে জমি ইসরাইলের কাছে বিক্রিও করেছিলেন। তারা চার ভাই উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সানোয়ার হোসেনের কাছে আবেদন করে এ জমি নিজেদের নামে খারিজ করেছেন। এ কর্মকর্তা কীভাবে তাদের নামে জমি খারিজ করে দিয়েছেন তা তিনি বলতে পারবেন না।
সহকারী কমিশনার সানোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তাই এ ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ইসরাইল হকের অভিযোগ তিনি তদন্ত করছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছেন।