আজ বাইশে শ্রাবণ; কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়ান দিবস। তবে মৃত্যু বাঙালির কাছ থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারেনি এই মহাপ্রাণকে। মৃত্যুকে জীবনের ধারাবাহিকতা মাত্র বলেই মনে করতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কর্মের বিপুলতায় তিনি হয়ে রইলেন মৃত্যুঞ্জয়ী। বাঙালির সকল সময়েই তিনি প্রাসঙ্গিক, সকল প্রয়োজনে পথপ্রদর্শক।
আনন্দে, বেদনায়, দ্রোহে ও প্রেমে রবীন্দ্রনাথ বাঙালির প্রেরণা। মৃত্যুর এত বছর পরও কবিগুরু এমনই মহীরূহ, যার শাখা-প্রশাখা বাঙালি এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে পথ দেখায়।
জন্মদিনে পা ফেলার জায়গা না থাকলেও মৃত্যুদিনে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে সুনশান নিরবতা। কবিগুরুর স্মরণে নেই কোন আলোচনা অনুষ্ঠান, নেই দর্শনার্থীর ভীঁড়। তবে দিনটি উপলক্ষে আজ থেকে ২ দিনব্যাপি আয়োজন আছে কুষ্টিয়া কুঠিবাড়ি খ্যাত শহরের টেগর লজ ও পৌরসভা ব্যক্তি উদ্যোগে। এদিকে, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারী বাড়ী বা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মহাপ্রয়াণ উপলক্ষ্যে নেই কোন আয়োজন। রবীন্দ্রবিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এবার দিনটি পালন না হওয়ার খবরে হতাশ রবীন্দ্র ভক্ত অনুরাগীরা।
বাঙ্গালীর নিত্যদিনের সাথে মিশে থাকা রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সময়ের চেয়েও বেশি অগ্রসর। শুধু সাহিত্য-সংস্কৃতি নয়, রাজনীতি ও সমাজনীতির ছন্দও তার সৃষ্টিকর্মে উঠে এসেছে নান্দনিকতা নিয়ে। তাইতো এখনও সমান প্রসঙ্গিক রবীন্দ্রনাথ।
বিচিত্র বিষয়ে চিন্তায় অবগাহন রবীন্দ্রনাথের নিত্যকর্মেরই অংশ। এই মহামনীষীর মৃত্যু ভাবনাও ছিলো অন্যরকম। মৃত্যুর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাকে তিনি খুঁজে পাননি। বরং মৃত্যু শোক তাকে এগিয়ে দিয়েছে সৃজনশীলতার মহাসোপানে। তাঁর ভাবনায়, জীবন আর মরণ, একই সত্ত্বার দুই দিক।
ঝরছে শ্রাবণের অঝর ধারা, বয়ে চলেছে সময়। আধুনিকতা থেকে, উত্তর আধুনিকতায় যাত্রা করে সময়। তারপরেও যার প্রাসঙ্গিকতা বঙ্গজীবনের অঙ্গ হয়ে থেকে যায়, তিনিই রবীন্দ্রনাথ। বাঙালির মনন ও জীবনজুড়ে আছে যাঁর অপার সৃষ্টি সম্ভার, তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ ১৮৯১ থেকে ১৯০২ টানা ১০টি বছর কাটিয়েছেন শিলাইদহে। এখানে বসেই ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলী অনুবাদ করে নোবেল পান তিনি। কিন্তু কবিগুরুর ৭৭তম মহাপ্রয়ান দিবসে কবির স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি নিরব।
ভক্সপপঃ ০১/২,৩,৪ দর্শনার্থী।
মৃত্যুকে তিনি ভয়ের জায়গা থেকে অনুভব করতে চানননি। অর্ন্তগত উপলব্ধি দিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন সেইসব দুর্বল মুহুর্তের। শেষ অবধি তিনি ছাড়িয়ে গেছেন মৃত্যু ও নশ্বরতার সীমানা। রবীন্দ্রনাথ জড়িয়ে আছেন বাঙালির মেধা,মনন আর আধুনিকতায়। তাকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্যের কথা ভাবাই যায় না। বেঁচে রয়েছেন মহাকালে।